সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন

সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি

সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি
দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন প্রভাবশালী ৩ বিএনপি নেতা।

দলীয় প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) সংসদীয় এলাকায় বিএনপি পরিবারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য জোর দাবি তুলেছে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা। মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে মিছিল, সমাবেশ, সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এবার দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে থাকা সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার তিন শীর্ষ নেতা আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে লোহাগাড়ার বাসিন্দা ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এই মনোনয়নকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের অসন্তোষ, মাঠের নেতা-কর্মীদের প্রতিবাদ এবং মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন প্রভাবশালী নেতার প্রকাশ্য অসন্তোষের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

সূত্র জানায়, মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে তিন নেতা ইতোমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এতে পুরো আসনজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের একটি রেস্টুরেন্টে এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন নেতা বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই নাজমুল মোস্তফা আমিনের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল করে নতুনভাবে মনোনয়ন বিবেচনার দাবি জানান।

তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে প্রার্থী টিকবে না বলে উল্লেখ করে জামাল হোসেন বলেন, "চট্টগ্রাম-১৫ আসন দলীয় আন্দোলনের একটি কেন্দ্রবিন্দু। এখানে তৃণমূল খুব সচেতন। জনগণের আস্থা না থাকলে নির্বাচনী মাঠে দল বিপাকে পড়বে। বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।"

দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে মুজিবুর রহমান বলেন, "যারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, মামলা–হামলার ঝুঁকি নিয়েছেন তাদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া খুব স্পষ্ট—এই মনোনয়ন পুনর্মূল্যায়ন করতেই হবে।"

জনপ্রিয়তা ও মাঠের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রার্থী নির্ধারণ করার দাবি জানিয়ে শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, "এলাকাবাসী কার প্রতি আস্থা রাখে তা দলকে বিবেচনায় নিতে হবে। ঘোষিত মনোনয়ন তৃণমূলের মনস্তত্ত্বকে ধারণ করতে পারেনি। তাই নতুন করে মূল্যায়ন জরুরি।"

উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর এ আসনের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাজমুল মোস্তফা আমিনের নাম ঘোষণার পর থেকেই সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বিভিন্ন স্থানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা মশাল মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং সড়কে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানান।

একজন স্থানীয় নেতা বলেন, "দল যাকে ঘোষণা করেছে তাকে দুঃসময়ে এলাকায় দেখিনি। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে কোনো সভা, সমাবেশ, মিছিল কিংবা নির্বাচনী কার্যক্রম কিছুই হয়নি।"

আরেকজন বলেন, "জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও আন্দোলনে সক্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থী ঠিক করতে হবে। আমরা চাই, দল যেন জয়ের মতো প্রার্থী নিশ্চিত করে।"

চট্টগ্রাম-১৫ আসন বিএনপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি। প্রায় দুই যুগ পর ধানের শীষে নির্বাচনে ফেরার প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের প্রত্যাশা ছিল উচ্চ। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিন শীর্ষ নেতার কঠোর অবস্থান প্রার্থী বাছাইয়ের প্রশ্নে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। মাঠে নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়াও এখন হাইকমান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।




আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশা অ্যামচেমের

আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশা অ্যামচেমের
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও এগিয়ে নিতে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আনতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অ্যামচেমের নেতারা এই প্রত্যাশার কথা জানান। অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেয়।

সাক্ষাৎকালে অ্যামচেম জানায়, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের কর রাজস্বে ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে। বিগত বছরগুলোতে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে উল্লেখ করে প্রতিনিধিদল আরও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের অংশীদারত্ব কামনা করে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের অগ্রগতির প্রশংসা করে অ্যামচেম। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংস্কার প্যাকেজের আওতায় নির্ধারিত সময়ে অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের ডিজিটাইজেশন, কমপ্লায়েন্সের চাপ কমানো, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণের মতো বাস্তবমুখী পদক্ষেপগুলোকে তারা স্বাগত জানায়।

পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে পিডিপিএ ও এনডিজিএ প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন, এআই ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোকে একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে অ্যামচেম প্রযুক্তি, এআই, ক্লাউড প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আর্থিক খাতের আধুনিকায়নের মতো ক্ষেত্রগুলো নিয়ে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য অ্যামচেমের পক্ষ থেকে 'ডিজিটাল ইকোনমি অ্যাডভাইজরি ফোরাম' বা টাস্কফোর্স এবং 'পাবলিক-প্রাইভেট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল' গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া ৩০তম ইউএস ট্রেড শো-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

অ্যামচেমের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। নীতির স্পষ্টতা, দক্ষ প্রশাসন এবং ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে উল্লেখ করে তিনি সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে অ্যামচেমের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে সরকারের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে অ্যামচেম প্রতিনিধিদলে সহসভাপতি আলা উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ রাসেল আল মামুন, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, আতাউর রহিম চৌধুরী এবং নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদ অংশ নেন।




চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুন্না, সদস্যসচিব জোবাইরুল

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুন্না, সদস্যসচিব জোবাইরুল
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে লায়ন এ এম মুন্না চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও জোবাইরুল আলম মানিককে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার শামসুল আলম; যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম, জয়নুল আবেদীন কায়সার, মোহাম্মদ সেলিম, আলাউদ্দিন মাসুদ, প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাইয়ুম; সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মোঃ মুশফিকুর রহমান চৌধুরী; যুগ্ম সদস্যসচিব যথাক্রমে মাওলানা আনাস মাহমুদ, আরিফুর রহমান, ফরিদুল আলম, মীর মনসুরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, রোকজিনা আক্তার, জিয়াউল করিম, মোহাম্মদ আরজু, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, মোঃ নুরুল আমীন, মঈনুদ্দিন সাকিব; সাংগঠনিক সম্পাদক যথাক্রমে মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, সিফাত চৌধুরী; দপ্তর সম্পাদক ইরফান মাহমুদ আল সাঈদ; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আরমান উদ্দিন আজাদ; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান হোসেন তারা; জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক শাহেদুল আলম; কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম; সমাজকল্যাণ সম্পাদক শেখ বদিউল আলম নোমান; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোঃ শাহরিয়ার ইমন; শিক্ষা‌বিষয়ক সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন শাকিল এবং নারীবিষয়ক সম্পাদক পদে ডালিয়া বড়ুয়া দায়িত্ব পেয়েছেন।

নবগঠিত কমিটির সদস্যসচিব জোবাইরুল আলম মানিক বলেন, "সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এ কমিটি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আগামীতে প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে আমাদের সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখবেন।"




বাঁশখালীতে ছেলের হাতে বাবা খুন!

বাঁশখালীতে ছেলের হাতে বাবা খুন!
নিহত বাবা শাহজাহান ও তাঁর হত্যাকারী ছেলে মুহাম্মদ শওকত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পারিবারিক কলহের জেরে ঘাতক ছেলের হাতে মোহাম্মদ শাহজাহান নামে এক বাবা খুন হয়েছেন। সোমবার রাতে উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কোকদণ্ডী নিদাগাজী পাড়া এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হতভাগ্য বাবা প্রাণ হারিয়েছেন।

পারিবারিক কলহের জেরে সোমবার রাতে প্রবাসফেরত ঘাতক ছেলে মুহাম্মদ শওকত (২২) বাবার ওপর হামলা চালায়। এতে বাবা শাহজাহান মারাত্মকভাবে আহত হলে আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে শাহজাহান মারা যান। ছেলের হাতে বাবার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

জানা গেছে, ছেলে মুহাম্মদ শওকত প্রবাসে ছিলেন। সেখান থেকে পাঠোনো টাকায় বাড়িতে পাকা দালান তোলার কাজ শুরু হয়। পরে ছেলে অনলাইনে পরিচয়ের সূত্রে মা-বাবার অজান্তে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। ওই মেয়েকে নিয়ে শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। এর মধ্যে বন্যা শুরু হলে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন ছেলে। এ নিয়ে পিতা-পুত্রের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও বিবাদ হতো।

সোমবার রাতে বাবা ছেলেকে বিদেশ থেকে চলে আসার বিষয় নিয়ে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলে শওকত বাবার ওপর হামলা চালান। এলোপাতাড়ি মারধরে অজ্ঞান হয়ে যান বাবা শাহজাহান। স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাঁর আর জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বাবা শাহজাহান প্রাণ হারান।

বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।