সোলার এক্সপোতে প্রধানমন্ত্রী: গ্রীষ্মের আগেই গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

সোলার এক্সপোতে প্রধানমন্ত্রী: গ্রীষ্মের আগেই গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

সোলার এক্সপোতে প্রধানমন্ত্রী: গ্রীষ্মের আগেই গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ
ছবি সংগৃহীত।

সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারের নেওয়া বিশেষ পদক্ষেপে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের এই লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান তিনি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এই এক্সপোর আয়োজন করে। এবারের এক্সপোর মূল প্রতিপাদ্য—‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতের আয় বাড়াই।’

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জেনে আশ্বস্ত হবেন যে, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে সরকার। এই খাতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। সবকিছু যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে ইনশাআল্লাহ আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ করতে সরকার সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রত্যাশা—সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদগুলো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হোক। সে ক্ষেত্রে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম থেকে নিজস্ব ব্যবহার শেষে যারা বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন, বিশেষ প্রণোদনাসহ সরকার ২০ ২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে তাঁদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করবে।

তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হবে না, ইনশাআল্লাহ।

তারেক রহমান আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে রূপান্তরিত করি এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

অনুষ্ঠানে ‘ইনোভেটিভ আইডিয়া’ উপস্থাপন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অন্তত ৩০০ মেধাবী তরুণ-তরুণী তাদের আইডিয়া জমা দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই আগামীর বাংলাদেশে এভাবে জ্ঞানের ও নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণার প্রতিযোগিতা চলুক। আপনার একটি ইনোভেটিভ আইডিয়া হয়তো বাংলাদেশের জন্য ‘গেম চেঞ্জিং’ বিষয় হতে পারে। অর্থের অভাবে তারুণ্যের কোনো উদ্ভাবনী ভাবনা যেন হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে চলতি বাজেটে স্টার্টআপগুলোর জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সোলার এক্সপো-২০২৬-এর স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। 'সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোক্তারাই এই উদ্যোগের মূল চাবিকাঠি' উল্লেখ করে তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে।

কুইক রেন্টালের পরিবর্তে সাশ্রয়ী পন্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এই এক্সপোতে সারা দেশের উদ্যোক্তা ও সেবা প্রদানকারীদের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে—কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী পন্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনার খাত নয়, এটি একটি অনিবার্য বাস্তবতা।"

অতীতের নীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটাকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে এবং বাংলাদেশকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। সেই সংকটের মধ্য দিয়ে দেশ ও জনগণ এখনো যাচ্ছে।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ইতোমধ্যেই ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরেও সমপরিমাণ চাহিদা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো হয়েছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি তেল কিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আলাদাভাবে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাজনীতির চেয়ে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানই অগ্রাধিকার

বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট না করে কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া যায়, সেটাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। চলমান সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা (যার খবর মেইনস্ট্রিম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে), জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং সৌরবিদ্যুৎ দ্রুত সম্প্রসারণে সরকার একযোগে কাজ করছে।

বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনাদের আহ্বান জানানোর আগেই আমি নিজে আমার বাসায় সোলার প্যানেল স্থাপন করেছি। প্রতিদিন আমার ব্যবহারের অতিরিক্ত কিছু ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অর্থায়ন সহজ করার পাশাপাশি সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির দাম কমাতে আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনে কর ও শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি গ্রাহকদের সঠিক সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৮ হাজারের বেশি 'সার্ভিস প্রোভাইডার' প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোকে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেন।

কৃষি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার

কৃষি খাতে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকিমূল্যে বিদ্যুৎ দেয়। পর্যায়ক্রমে সব সেচ পাম্পকে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। বরেন্দ্র এলাকায় ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং আশা করছি আগামী এক বছরের মধ্যে ১৭ হাজার সেচ পাম্পকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি সাধারণ জনগণকে দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা এবং অপ্রয়োজনে ফ্যান, লাইট বা গ্যাজেট বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের বড় প্রকল্পের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মিরানা মাহরুখ।




এক মাসের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামোর আশা

এক মাসের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামোর আশা
ছবি সংগৃহীত।

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে এক মাসের মধ্যে সুপারিশ প্রণয়নের আশা করছেন নবগঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী। তিনি বলেন, আগেরবারের মতো দীর্ঘ সময় লাগবে না। শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ করা হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে বোর্ডের প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চেয়ারম্যান।

এর আগে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ সভায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতার মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হলো এই সভার মধ্য দিয়ে।

সৈয়দ আজাদ সুবহানী বলেন, গত ১ নভেম্বর সরকার তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য নিয়োগ দিয়েছে। এর মাত্র তিন দিনের মাথায় বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হলো। সভায় সদস্যদের পরিচিতি পর্বের পাশাপাশি মজুরি নির্ধারণের আইনগত প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আশা করছি, অচিরেই পরবর্তী সভায় মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারব। মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেছেন। পরবর্তী সভায় তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনে লিখিত প্রস্তাব ও সুপারিশ নেওয়া হবে।

আগেরবার মজুরি নির্ধারণে সাতটি সভা করতে হয়েছিল। এবার কতটি সভা লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণত এ ধরনের কাজের জন্য ছয় মাসের সময়সীমা থাকে। তবে বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড গঠনের তিন দিনের মধ্যেই প্রথম সভা হয়েছে। তাই এবার আগের মতো দীর্ঘ সময় লাগবে না বলে আশা করছেন তারা।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বোর্ডের কর্মপরিকল্পনা ও কার্যপদ্ধতি শ্রমিকদের স্বার্থের পক্ষেই রয়েছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও সভায় শ্রমিকদের বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাই শ্রমিকদের বোর্ডের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিকদের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে দ্রুত ভালো ফল পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দেওয়া মজুরির প্রস্তাব এবং মালিকপক্ষের মতামত পাওয়ার পর বোর্ড পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।

বোর্ডের পরবর্তী সভা আগামী সপ্তাহে হতে পারে বলে জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিজ নিজ সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব তৈরির জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে ভালো ফল নাও আসতে পারে। তাই দ্বিতীয় সভার আগে তাদের প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হবে।




দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরী নির্দেশনা

দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরী নির্দেশনা
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি ভবনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে ৭ নভেম্বর দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতেও পতাকা উত্তোলন করা হবে।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বসংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করা হয়েছে।




শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ড্রোনে নজরদারি

শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ড্রোনে নজরদারি
ছবি সংগৃহীত।

শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি আশুলিয়া ও মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে লাইভ মনিটরিং করছে বিজিবি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংযোগস্থল ও সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে এসব ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

বিজিবি জানিয়েছে, জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল ও শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।