স্কুলমাঠে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

স্কুলমাঠে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন

স্কুলমাঠে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে রেললাইনের ওপর বা রেলের অধিগ্রহণকৃত জমি এবং স্কুলসংলগ্ন মাঠে পশুর হাট বসানোর জন্য একাধিক স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ একই বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলিতেই এসব স্থানে হাট বসানো নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি শর্তাবলির সঙ্গে প্রকাশিত স্থান তালিকার এমন অসামঞ্জস্য প্রশাসনিক ত্রুটি, নাকি বিশেষ কোনো মহলের প্রভাব তা স্পষ্ট করা জরুরি।

শর্তাবলিতে নিষেধ, তালিকায় অনুমোদন
ইজারা বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলির ২ ও ২১ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে, রেললাইন বা রেলের অধিগ্রহণকৃত জমিতে কোনো বাজার বা হাট বসানো যাবে না। কিন্তু একই বিজ্ঞপ্তির ১৩ নম্বর সিরিয়ালে শাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীত পাশে অস্থায়ী পশুর হাটের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী রেললাইনসংলগ্ন এবং রেলের অধিগ্রহণকৃত জমির অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া শর্তাবলির ৭ ও ২৬ নম্বর ধারায় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ বা মাঠসংলগ্ন স্থানে অস্থায়ী বাজার বা হাট বসানো নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তির স্থান তালিকায় নিম্নোক্ত চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন মাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ইলিশিয়া উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠ, রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠ, উত্তর বরইতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠ এবং হারবাং ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় মাঠ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, শর্তাবলি উপেক্ষা করে এসব স্থান কীভাবে অনুমোদন পেল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, একই বিজ্ঞপ্তির ভেতরে এমন সাংঘর্ষিক তথ্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বললেও অনেকে মনে করছেন এটি পরিকল্পিতভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

এটি কি শুধুই প্রশাসনিক অসাবধানতা? নাকি কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপের ফল? নাকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে?

সচেতন মহল চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টির লিখিত ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনসম্মুখে অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও শর্তাবলির মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা উচিত, যাতে ইজারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনআস্থা বজায় থাকে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, "এসব স্থানে দীর্ঘদিন থেকে বাজার নিলাম ও ইজারা হয়ে আসছিল, তাই স্কুলসংলগ্ন মাঠ ইজারা দেওয়া হয়েছে।"




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।