হরমুজ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন

হরমুজ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

হরমুজ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প
ছবি সংগৃহীত।

হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবেৃ বাণিজ্যিক এই জলপথে চলাচলকারী পণ্যবাহী বেসামরিক জাহাজগুলো থেকে ২০ শতাংশ হারে টোল আদায়ের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা প্রত্যাহার করেছেন তিনি।

গতকাল নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে মার্কিনস প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ট্রাম্প যদি হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাবদ টোল আদায় করা থেকে বিরত থাকে— তাহলে নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য বয়ে আনবে উপসাগরীয় দেশগুলো। এই প্রতিশ্রুতির পরেই হরমুজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন তিনি।

এ আগে ১৩ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হিসেবে  প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেবে মার্কিন নৌবাহিনী এবং এতে যে ব্যয় হবে— তা পূরণ করা হবে প্রণালিতে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলো থেকে ২০ শতাংশ হারে টোল আদায়ের মাধ্যমে।

এই ঘোষণা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেলেন ট্রাম্প। ১৪ জুলাই ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যের (উপসাগরীয় অঞ্চলের) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে খুব ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর আমি হরমুজ থেকে টোল আদায় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর পরিবর্তে শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রে আসবে। মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”

কী পরিমাণ অর্থ মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করবেন— সে সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প, তবে ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেছেন, এই অর্থের পরিমাণ হবে বিপুল এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রেজুড়ে পণ্য প্রস্তুতকরণ, শিল্পোৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের ‘ঐতিহাসিক উল্লম্ফন’ ঘটবে।

“এই বিনিয়োগ এলে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানাগুলোর উৎপাদনে ঐতিহাসিক উল্লম্ফন ঘটবে এবং এর ফলে দেশজুড়ে লাখ লাখ উচ্চ –বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে”, মঙ্গলবারের পোস্টে বলেছেন ট্রাম্প।

থেকে টোল আদায় থেকে সরে এলেও হরমুজ ইস্যুতে কোনো ছাড় দিতে একেবারেই নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, হরমুজ এবং তার আশপাশে মার্কিন নৌবাহিনীর টহল-নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্বের অন্য সব দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারলেও ইরানের কোনো জাহাজ হরমুজ ব্যবহার করতে পারবে না, এমনকি বন্দর ছেড়ে বাইরেও যেতে পারবে না।

“হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে যে পরিমাণ তেল পরিবহন করা হচ্ছে, অতীতে কখনও এমন হয়নি। এই কৃতিত্ব মার্কিন সামরিক বাহিনীর এবং এজন্য ধন্যবাদ তাদের প্রাপ্য। ভবিষ্যতেও হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল অব্যাহত থাকবে, তবে ইরানের কোনো জাহাজ এই প্রণালি তো ব্যবহার করতেই পারবে না— এমনকি বন্দর ছেড়ে বাইরেও যেতে পারবে না। আর দেশটির যেসব জাহাজ বর্তমানে বাইরে আছে— সেগুলোও ইরানে প্রবেশ করতে পারবে না। ইরানের বন্দরগুলোতে সম্পূর্ণ অবরোধ পুনর্বহাল করা হয়েছে”, ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেন ট্রাম্প।

সূত্র : এএফপি, ফার্স্টপোস্ট




মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল

মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল
ছবি সংগৃহীত।

হাজার হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে অভিবাসন দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসন সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসা লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপকহারে ভিসা বাতিল গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর শুরু হওয়া অভিবাসন দমন অভিযানেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীন সংখ্যক মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ফলস্বরূপ এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যাতে তাঁদের ভিসার শর্তাবলি মেনে চলেন এবং আমেরিকানদের বিপদে ফেলেন না, সেটি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজমের’ জন্য ১০০ জনেরও বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। তারা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবে, তাদের ভিসা বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। ওই সময় এটি একটি রেকর্ড ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা 




হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত

হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলতে দেয় ভারত সরকার। এ নিয়ে ঢাকা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানায়।

হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের দুইদিন পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত। আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এ সাংবাদিক। জবাবে তিনি প্রথমে দাবি করেন, হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর হাসিনা ওইদিন বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে যা যা বলেছেন সেটিতেও নয়াদিল্লির সমর্থন নেই।

রণধীর বলেন, “একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এতে সরকারের কোনো অবদান নেই। আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখা হাসিনা ও অন্যান্যদের কথার প্রতি ভারতের কোনো সমর্থন নেই উল্লেখ করে এ কূটনীতিক বলেছেন, “ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো কথাকেই (ভারত) সরকার সমর্থন করে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের ব্যাপারে দেওয়া কোনো মন্তব্য তো নয়ই।”

হাসিনাপুত্র সজিব ওয়াজেদ ওইদিন মন্তব্য করেন ভারতের পূর্ব দিকের অঞ্চল (বাংলাদেশ) এখন  পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে। এ ব্যাপারে রণধীরকে অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন জয় যে কথা বলেছে সেটিকে ভারত সমর্থন করে কি না, এ ব্যাপারে তারা কোনো কিছু করছেন কি না।

জবাবে রণধীর বলেন, “আমরা আমাদের একদম পাশের প্রতিবেশীর ওপর গভীর নজর রাখি, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেগুলো সেগুলোর ওপর। আর এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা সেগুলো নেই।”




থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭
ছবি সংগৃহীত।

থাইল্যান্ডে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ওই স্কুলের এক শিক্ষক এবং হামলাকারী নিজেও আছে।

আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলার একটি সুপরিচিত স্কুলে এই ঘটনা। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছিল।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

দেচরাপি কংদি আরও জানান, স্কুলভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে গুলি ছুড়েছিল ওই শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সে নিজে আত্মঘাতী হয়।

গুলি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা স্কুল থেকে সরে পড়েছিলেন।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।

সূত্র : এএফপি