হাটহাজারীতে ইসলামী আন্দোলন কমিটির দায়িত্বে ছাত্রলীগ নেতা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির সহ-প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদকের পদে শপথ গ্রহণ করেছেন ছাত্রলীগ নেতা মোর্শেদ প্রকাশ জিসান। এ নিয়ে জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর হাটহাজারী উপজেলার নবগঠিত কমিটিতে শপথ গ্রহণ করলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস গণীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মো. মোর্শেদ প্রকাশ জিসান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগের পরিচয়ে যত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল এই মোর্শেদ। জায়গা দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ইউনুস গণির অনুসারী হওয়া এবং পৌরসভার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদের ছায়াতলে থাকার কারণে মানুষ তেমন প্রতিবাদ করতে পারেনি। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুতির পর বেশ পাল্টাতে শুরু করে ছাত্রলীগের এই কর্মী। তার বড় ভাই মামুনুর রশিদ ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার সুবাদে কৌশলে ছাত্রলীগ থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখা ২৫-২৬ সেশনের নবগঠিত কমিটির সহ-প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদকের পদে শপথ গ্রহণ করেন। ছাত্রলীগের এই কর্মী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রাম, মান্নান ড্রাইভারের পুত্র।
অভিযোগ রয়েছে, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইউনুস গণির অনুসারী হয়ে চন্দ্রপুর ভোট কেন্দ্রে ছাত্রলীগের ক্যাডার নিয়ে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেন। এতে দুই প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। পরে বিজিবি ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নির্বাচনের এক সপ্তাহ পরে ইউনুস গণির প্রভাব খাটিয়ে পশ্চিম আলমপুর খিলপাড়ায় জোরপূর্বক এক ব্যক্তির ভবনের ছাদ ঢালাই করেছেন ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পৌরসভা ছাত্রলীগের শাহেদকে দিয়ে। টাকা লেনদেনসহ ছাত্রলীগের ক্যাডারের দায়িত্বে ছিল এই মোর্শেদ। এভাবেই ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য মোর্শেদ পরিস্থিতি বুঝে 'পল্টি' মেরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দিয়েছেন। এ নিয়ে পুরো হাটহাজারীতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর হাটহাজারী উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির দায়িত্বে ছাত্রলীগ নেতার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর হাটহাজারী উপজেলা কমিটির সভাপতি এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা মতিউল্লাহ নুরী জানান, "বর্তমানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যারা করেছেন, এনসিপি বলেন কিংবা ছাত্র শিবির বলেন, তারা তো ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন। তাই বলে কি তাদেরকে এখন ছাত্রলীগ বলতে পারবেন? সময়ের ব্যবধানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, হাসিনাকে 'কওমি জননী' বলেছেন। তাই বলে কি হেফাজতে ইসলাম আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে? যারে নিয়ে অভিযোগ তার কোনো পদ, পদবি কিংবা মামলা আছে? যদি থাকে, তাহলে আমাকে দেন। সে হয়তো ভুল পথে ছিল, কিন্তু এখন থেকে সে ভালো পথে এসেছেন।"
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর হাটহাজারী উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির দায়িত্বে ছাত্রলীগ কর্মী রাখা যায় কিনা জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ জানান, "এ বিষয়ে কোনো কিছু জানি না। তবে আমি খবর নিয়ে দেখছি।"












