১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন-তেহরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৯ অপরাহ্ন

১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন-তেহরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন-তেহরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
ছবি সংগৃহীত।

ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে ঐতিহাসিক এক বৈঠকে অংশ নিতে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালীন দুই সপ্তাহের বিরতির মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

স্থানীয় সময় আজ (শনিবার) সকালে ইসলামাবাদের নূর খান বিমানঘাঁটিতে অবতরণের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের পৌঁছানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইশাক দার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ সময় তিনি ‘আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের’ প্রশংসা করেন।

উপ-প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, পক্ষগুলো গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেবে। সেই সঙ্গে চলমান এই সংঘাতের একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে তৈরি হওয়া শেষ মুহূর্তের বাধা কাটলে শনিবার ভোরেই ইসলামাবাদে পৌঁছায় ইরানি প্রতিনিধি দল। এর আগে তেহরান শর্ত দিয়েছিল, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা এই সংলাপে অংশ নেবে না। এ বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির শর্তাবলীতে লেবানন প্রসঙ্গটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।


মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভ্যান্সের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া নিরাপত্তা, কারিগরি ও যোগাযোগ বিষয়ক একটি অগ্রবর্তী দল আগেই ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এই দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও রয়েছেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলে অন্য আলোচকদের মধ্যে রয়েছেন সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব আলি আকবর আহমাদিয়ান এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেমমাতি।

১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে।

তবে এই আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় যোগ দেবে না। অবশেষে সেই বাধা কাটলে ঐতিহাসিক এই সংলাপের পথ প্রশস্ত হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তেহরানের এই আলোচনায় অংশগ্রহণ দুটি শর্তের ওপর নির্ভর করছে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং বিদেশে জব্দ করা ইরানের প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত দেওয়া। তিনি বলেন, “আলোচনা শুরুর আগেই এই শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।”

ইরানের একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম ডনকে বলেন, “আমরা আলোচনার অন্যতম ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে বৈরুত ও দাহিয়েতে হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করেছি। আমরা এটাও পরিষ্কার করে দিয়েছি যে, ইসরায়েল যদি আবারও সেখানে হামলা চালায়, তবে আলোচনা বাতিল করা হবে।”

বিরোধের মূল জায়গা
ইরানের দাবি, যেকোনো যুদ্ধবিরতিকে হিজবুল্লাহসহ সব ফ্রন্টে কার্যকর হতে হবে। অন্যদিকে, লেবানন যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে শুরুতে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত লেবাননে চালানো হামলাগুলোকে এই সাময়িক চুক্তির আওতার বাইরে রাখতে চাইছে।

মতের এই ভিন্নতা বারবার কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটিকে ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কায় ফেলে।

ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে জেডি ভ্যান্স এই সম্ভাব্য আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে ইরান যদি সময়ক্ষেপণের কোনো কৌশল অবলম্বন করে, তবে ওয়াশিংটন তা কোনোভাবেই ‘গ্রহণ করবে না’ বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে এখন আর ‘বেশি কার্ড’ নেই। আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর তেহরানের ক্রমাগত বিধি-নিষেধের কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। বর্তমান অচলাবস্থায় এই নৌপথটি ইরানের জন্য একটি বড় কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যার দেশ এই সংলাপ আয়োজনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে, তিনি জানিয়েছেন যে এই আলোচনা সফল করতে পাকিস্তান ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করবে। তিনি এই আলোচনাকে ‘সংলাপের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ ইস্যুগুলো’ সমাধানের একটি সুযোগ হিসেবে অভিহিত করলেও সামনে থাকা কাজগুলো যে বেশ জটিল, তাও স্বীকার করেছেন।

আলোচনার আলোচ্যসূচিতেও সেই জটিলতার প্রতিফলন দেখা গেছে। ইরান ১০ দফা যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তাকে সাধারণ কাঠামো হিসেবে ওয়াশিংটন গ্রহণ করলেও দুই পক্ষের মধ্যে মৌলিক কিছু বিষয়ে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কড়াকড়ি আরোপ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা এবং পারমাণবিক উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে চাপ দেবে। অন্যদিকে, ইরান পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তাদের পারমাণবিক অধিকারের স্বীকৃতি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি কাঠামো তৈরি এবং বিদেশে জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি তুলছে।

আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং ছাড় দেওয়ার পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো এই আলোচনায় উত্তপ্ত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।

কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের ধারণা, অমীমাংসিত বিষয়ের পরিধি এতই বিশাল যে, প্রথম দুই দিনের এই প্রাথমিক আলোচনা থেকে বড় কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা খুবই কম। বড়জোর, এই প্রথম দফার বৈঠকটি ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার একটি পথ তৈরি করতে পারে অথবা উত্তেজনা প্রশমনে তাৎক্ষণিক কিছু সীমিত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে।

ফলে, এই বৈঠক নিয়ে প্রত্যাশা এখনো খুবই সতর্ক। তবে সব বাধা পেরিয়ে ইসলামাবাদে প্রতিনিধি দলগুলোর এই উপস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি বিরল কূটনৈতিক সুযোগ। যদিও লেবাননে চলমান সহিংসতা, পারস্য উপসাগরে নৌপথের অস্থিরতা এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার গভীর অবিশ্বাসের কারণে এই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন এক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র : ডন। 




মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল

মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল
ছবি সংগৃহীত।

হাজার হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে অভিবাসন দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসন সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসা লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপকহারে ভিসা বাতিল গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর শুরু হওয়া অভিবাসন দমন অভিযানেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীন সংখ্যক মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ফলস্বরূপ এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যাতে তাঁদের ভিসার শর্তাবলি মেনে চলেন এবং আমেরিকানদের বিপদে ফেলেন না, সেটি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজমের’ জন্য ১০০ জনেরও বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। তারা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবে, তাদের ভিসা বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। ওই সময় এটি একটি রেকর্ড ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা 




হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত

হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলতে দেয় ভারত সরকার। এ নিয়ে ঢাকা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানায়।

হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের দুইদিন পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত। আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এ সাংবাদিক। জবাবে তিনি প্রথমে দাবি করেন, হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর হাসিনা ওইদিন বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে যা যা বলেছেন সেটিতেও নয়াদিল্লির সমর্থন নেই।

রণধীর বলেন, “একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এতে সরকারের কোনো অবদান নেই। আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখা হাসিনা ও অন্যান্যদের কথার প্রতি ভারতের কোনো সমর্থন নেই উল্লেখ করে এ কূটনীতিক বলেছেন, “ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো কথাকেই (ভারত) সরকার সমর্থন করে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের ব্যাপারে দেওয়া কোনো মন্তব্য তো নয়ই।”

হাসিনাপুত্র সজিব ওয়াজেদ ওইদিন মন্তব্য করেন ভারতের পূর্ব দিকের অঞ্চল (বাংলাদেশ) এখন  পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে। এ ব্যাপারে রণধীরকে অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন জয় যে কথা বলেছে সেটিকে ভারত সমর্থন করে কি না, এ ব্যাপারে তারা কোনো কিছু করছেন কি না।

জবাবে রণধীর বলেন, “আমরা আমাদের একদম পাশের প্রতিবেশীর ওপর গভীর নজর রাখি, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেগুলো সেগুলোর ওপর। আর এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা সেগুলো নেই।”




থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭
ছবি সংগৃহীত।

থাইল্যান্ডে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ওই স্কুলের এক শিক্ষক এবং হামলাকারী নিজেও আছে।

আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলার একটি সুপরিচিত স্কুলে এই ঘটনা। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছিল।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

দেচরাপি কংদি আরও জানান, স্কুলভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে গুলি ছুড়েছিল ওই শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সে নিজে আত্মঘাতী হয়।

গুলি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা স্কুল থেকে সরে পড়েছিলেন।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।

সূত্র : এএফপি