৫৫ বছরেও সেতু নেই, টোলে সাঁকো পাড়ি ১০ গ্রামের মানুষ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন

৫৫ বছরেও সেতু নেই, টোলে সাঁকো পাড়ি ১০ গ্রামের মানুষ

৫৫ বছরেও সেতু নেই, টোলে সাঁকো পাড়ি ১০ গ্রামের মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার নারায়ণহাটে হালদা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি আজকের নয়। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় ৫৫ বছর ধরে এলাকার মানুষ একটি সেতুর আশায় প্রহর গুনছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে, কিন্তু নারায়ণহাটের হালদা নদীর দুই পাড়ের অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষের ভাগ্যে এখনো জোটেনি একটি নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে প্রতিদিন টোল দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো কিংবা নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।


নারায়ণহাট বাজার সংলগ্ন হালদা নদী নারায়ণহাট ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। নদীর দক্ষিণ পাশে রয়েছে জমিদারপাড়া, সুন্দরপুর, হাপানিয়া, রাজারটিলা, আনিচারখিল, খালাছিপাড়া, সন্দ্বীপপাড়া, পিলখানা, সুন্দর শাহ ছিলাইসহ একাধিক গ্রাম। অন্যদিকে উত্তর পাশে রয়েছে নারায়ণহাট বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, বাসস্টেশন, নারায়ণহাট ডিগ্রি কলেজ, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মহিলা মাদ্রাসা, বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।


এছাড়া সেতুর দক্ষিণ পাশেই অবস্থিত নারায়ণহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, নারায়ণহাট দাখিল মাদ্রাসা, হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামসুনাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এ গণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়ণহাট ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস এবং হযরত শাহ সুন্দর (রহ.)-এর ঐতিহাসিক আস্তানা শরীফ। এসব শিক্ষা, ধর্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত করতে হয়।


দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সাঁকোই ছিল দুই পাড়ের মানুষের একমাত্র ভরসা। সাঁকোটি ব্যবহার করতে প্রতিদিন টোলও দিতে হয় স্থানীয়দের। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে সাঁকোটির একটি অংশ একাধিক বার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো ও নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও রোগীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।


স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও অন্যান্য প্রয়োজনে এ পথে যাতায়াত করেন। কিন্তু একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া, কৃষিপণ্য বাজারজাত করা কিংবা মৃত ব্যক্তির মরদেহ গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা মালবাহী যানবাহন সরাসরি গ্রামে প্রবেশ করতে না পারায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।


বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জোয়ার-ভাটার প্রভাবে নদী উত্তাল হয়ে উঠলে পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। নৌকার স্বল্পতা, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে প্রতিদিন পথ চলতে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেক শিক্ষার্থীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় নদী পার হওয়ার জন্য। এতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, গত জুলাই থেকে একটি পক্ষের বাধার কারণে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিতভাবে যেতে পারছেন না চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ। ফলে জনসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘদিনের অনেক সমস্যারও কার্যকর সমাধান হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব যদি নিয়মিত পরিষদে থাকতে পারতেন, তাহলে হয়তো এতদিনে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যারই সুরাহা বের হয়ে আসত। কিন্তু আদালতের রায় পাওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় তিনি অফিস করতে পারছেন না, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তির ওপর।”


এলাকাবাসীর দাবি, নারায়ণহাট বাজার সংলগ্ন হালদা নদীর ওপর প্রায় ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ করা হলে অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।


এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, গত সরকারের আমলে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব ও প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছিল সেটি কার্যকর না হওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনায় একটি বেইলি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনাও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিলো। তবে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, সাময়িক সমাধান নয়; বরং একটি টেকসই ও স্থায়ী সেতুই পারে এ অঞ্চলের কয়েক দশকের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে।


চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ বলেন, নারায়ণহাট বাজার সংলগ্ন হালদা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। তিনি জানান, সেতুটি বাস্তবায়নের জন্য তিনি ইতিপূর্বে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ ও তদ্বির করেছেন। তিনি বলেন, “সেতুটি অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তাই জনস্বার্থে দ্রুত সেতুটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”


২নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, হালদা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। সেতুর অভাবে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।


সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি এলাকাবাসীর দাবি, নারায়ণহাটের হালদা নদীর ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে হাজারো মানুষের নিরাপদ যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
 




রাউজানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

রাউজানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাউজানে দুটি সাজা পরোয়ানাসহ পৃথক মামলায় জারি হওয়া মোট নয়টি পরোয়ানাভুক্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি এনামুল হক বাচা ওরফে বাচা কোম্পানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ট্রমা সেন্টারের সামনের সড়কে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার এনামুল হক বাচা ওরফে বাচা কোম্পানি পূর্ব রাউজান এলাকার আজিজুল হক কোম্পানির বাড়ির মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে।

রাউজান থানা-পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএমের নির্দেশনায় রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন পিপিএম এবং রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এসআই (নিরস্ত্র) মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই (নিরস্ত্র) মো. ইকবাল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনামুল হক বাচার বিরুদ্ধে দায়রা-৪৩৭/২৩, সিআর-৮৪০/২২ মামলায় এক বছরের সাজা পরোয়ানা এবং দায়রা-৯০১/২০২৪, সিআর-১৪০/২০২৩ মামলায় এক বছরের সাজা পরোয়ানা রয়েছে। এ ছাড়া জিআর-১০৮/২৫, সিআর-৫৭৬/২৫, দায়রা-১৯১৭/২২, সিআর-৬৮৪/২১, সিআর-১৫০/২০২৪, সিআর-৫৩০/২০২৪, সিআর-১৮৯/২০২৩ ও সিআর-১৮৮/২০২৩ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, পরোয়ানা জারির পর থেকে এনামুল হক বাচা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক মো. তানভীর।




রাউজানে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখে পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

রাউজানে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখে পরীক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাউজানে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়ার সংবাদ পেয়ে মনি দাশগুপ্ত (১৮) নামে এক পরীক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের পরপরই উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের গশ্চি সুনীল মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

তবে মনির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি আত্মহত্যা বলে গুঞ্জন উঠলেও পরিবারের দাবি, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে।

নিহত মনি দাশগুপ্ত একই বাড়ির মৃদুল দাশগুপ্তের মেয়ে। সে গশ্চি উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের অনিয়মিত এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুন নবী জানান, মনি এবার ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে গণিতে উত্তীর্ণ হলেও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়। তিনি বলেন, ‘প্রথমে শুনেছি ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়ার সংবাদ পেয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। পরে আবার কারও কাছে শুনলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কী, তা আমি জানি না।’

স্থানীয় কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফল প্রকাশের সময় মনির মা রেবা দাশগুপ্ত বাড়ির বাইরে রান্নার জন্য পাতা কুড়াতে গিয়েছিলেন। এ সময় মনি বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিল। এক নিকটাত্মীয় এসে তাকে পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়ার কথা জানান। এরপর মনি একটি কক্ষে একা চলে যায়। কিছুক্ষণ পর তার মা বাড়িতে ফিরে তাকে শয়নকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি চিৎকার দিলে স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে পথেরহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে দ্রুত তার সৎকার সম্পন্ন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নিহতের মা রেবা দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমি পাতা কুড়াতে গিয়েছিলাম। ঘরে এসে দেখি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। পথেরহাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফল প্রকাশের দশ মিনিটের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে। এবার শুধু দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। তাই বলে এমন হবে, তা আমি ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি। আগে জানলে আমি বাইরে যেতাম না।’

তবে তিনি মেয়ের আত্মহত্যার বিষয়টি এড়িয়ে যান। তাঁর দাবি, ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়ার সংবাদ শুনে তাঁর মেয়ে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছে। এর বাইরে তিনি কিছুই জানেন না এবং বলতেও পারবেন না।

এদিকে মনি আত্মহত্যা করেছে—এমন কোনো খবর সোমবার পুলিশ পায়নি বলে জানিয়েছেন নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে আত্মহত্যা করেছে এমন কোনো সংবাদ গতকাল আসেনি। তবে আজ (মঙ্গলবার) শুনেছি। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।’

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত না হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।




নারায়ণহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়: শিক্ষকসংকট ও অব্যবস্থাপনায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত; দুই বছর ধরে এসএসসিতে পাস নেই

নারায়ণহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়: শিক্ষকসংকট ও অব্যবস্থাপনায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত; দুই বছর ধরে এসএসসিতে পাস নেই
ছবি সংগৃহীত।

একসময় প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর ছিল বিদ্যালয়টি। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে কমতে এমন পর্যায়ে নেমেছে যে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাত্র তিনজন। তাদের একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। আগের বছরও একই অবস্থা ছিল।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে টানা দুই বছর ধরে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে মোট পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি একজনও। চলতি বছর পরীক্ষায় অংশ নেয় তিনজন—মানবিক বিভাগের দুজন ও বিজ্ঞান বিভাগের একজন।

তিনজনই অনুত্তীর্ণ হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীরও একই পরিণতি হয়েছিল।

ফলে টানা দুই বছর পাসের হার শূন্য হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়টির এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ক্যাম্পাস প্রায় জনশূন্য। ফল প্রকাশের পরদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল মাত্র দুজন ছাত্রী। শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতিও ছিল খুবই কম। বিদ্যালয়ের কাগজপত্র অনুযায়ী শিক্ষক রয়েছেন আটজন। তবে ওই দিন প্রধান শিক্ষকসহ উপস্থিত ছিলেন মাত্র দুজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসএসসির ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারেন—এমন আশঙ্কায় অন্য কয়েকজন শিক্ষক সেদিন বিদ্যালয়ে আসেননি। তাই অনুপস্থিত শিক্ষকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিবি মরিয়ম শান্তা বলে, শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস হয় না। বাংলার শিক্ষক থাকলেও গণিত ও ইংরেজির শিক্ষক নেই। ফলে পড়াশোনায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে।

শান্তা বলে, "শিক্ষকেরা নিয়মিত থাকলে ঠিকমতো পড়ালেখা হতো। আমরাও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারতাম। এখন সবাই ফেল করছে, কেউ পাস করছে না। আগে স্কুলটা ভালো ছিল। আমি যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হই, তখন অনেক শিক্ষার্থী ছিল। এখন বলতে গেলে কোনো শিক্ষার্থীই নেই।"

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসমা আকতার বলে, "স্কুলে শুধু শিক্ষকসংকট নয়, পানের যোগ্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও নেই। বিদ্যালয়ে কোনো টিউবওয়েল না থাকায় পানি সংগ্রহের জন্য পাশের বাড়িতে যেতে হয়।"

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে ৮৪ শতক জমির ওপর স্থানীয় কয়েকজনের উদ্যোগে শওকত সিকদার নামে এক ব্যক্তি নারায়ণহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এ অঞ্চলে নারীশিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে পাঠদানের অনুমোদন পায়। ২০০৬ সালে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এবং ২০০৮ সালে পূর্ণাঙ্গ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পার হলেও বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বিদ্যালয়ের আর্থিক সংকট দীর্ঘদিনের। পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থী ধরে রাখার ক্ষেত্রে।

এসএসসির ফলাফলের পরিসংখ্যানও সেই সংকটের চিত্র তুলে ধরে। ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি থেকে মোট ২৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ আগের বছরগুলোতে ফলাফল একেবারে খারাপ ছিল না। কিন্তু ২০২৫ সালে দুই পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি। ২০২৬ সালে পরীক্ষার্থী বেড়ে তিনজন হলেও ফলাফলের কোনো উন্নতি হয়নি।

বিদ্যালয়টির জন্য শুধু পাসের হার শূন্য হওয়াই উদ্বেগের বিষয় নয়; তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, কেন বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে এবং কেন শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানটির ওপর আস্থা হারাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সত্তরোর্ধ্ব প্রধান শিক্ষক সুখেন্দ্র বিকাশ দে বলেন, শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলে এনটিআরসিএর মাধ্যমে দক্ষ ও মানসম্মত শিক্ষক পাওয়া যাবে। এতে পাঠদানের মানও বাড়বে। বর্তমানে শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা দিতে না পারায় তাঁদের ওপর সেভাবে চাপ প্রয়োগ করাও সম্ভব হয় না।

নিজের বয়স ও নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ অঞ্চলের নারীশিক্ষার কথা বিবেচনা করেই তিনি প্রতিষ্ঠানটি ধরে রেখেছেন। বৃদ্ধ বয়সেও নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

ফটিকছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষক-কর্মচারী ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফলও আসছে না।

তিনি বলেন, "একজন বয়োবৃদ্ধ প্রধান শিক্ষক নিজের চেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি ধরে রেখেছেন। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছি।"

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। কী কী সমস্যার কারণে বিদ্যালয়টিতে এমন ফলাফল হচ্ছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।