‘নিজ দেশের নাগরিক হত্যা, তাদের গণকবর—সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না’: প্রধান উপদেষ্টা

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার রায়েরবাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জনের মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন— সোহেল রানা (৩৮), রফিকুল ইসলাম (৫২), আসাদুল্লাহ (৩২), মাহিন মিয়া (৩২), ফয়সাল সরকার (২৬), পারভেজ বেপারী (২৩), কাবিল হোসেন (৫৮) এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)। সিআইডি নিশ্চিত করেছে, শনাক্ত হওয়া প্রত্যেকেই বুলেটের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার মতো বর্বরোচিত ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। তৎকালীন সরকার যে নৃশংসতা ঘটিয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।” তিনি আরও বলেন, এই শনাক্তকরণ কার্যক্রম প্রমাণ করে— সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না।
বৈঠকে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এক আবেগঘন তথ্যে জানান, এক শহীদের মা নিয়মিত রায়েরবাজারের একটি নির্দিষ্ট গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতেন। আশ্চর্যজনকভাবে ডিএনএ পরীক্ষায় সেই গাছের নিচের কবরেই তাঁর সন্তানের সন্ধান মিলেছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ পরামর্শক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের সিআইডির হটলাইন নম্বরে (০১৩২০০১৯৯৯৯) যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।












