‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ইসরায়েলের জন্য বিপর্যয়’
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ইসরায়েলের জন্য বিপর্যয়’

‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ইসরায়েলের জন্য বিপর্যয়’
ছবি সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা এবং এটি ওয়াশিংটনে দেশটির কমতে থাকা প্রভাবকে স্পষ্ট করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি বিশ্লেষকরা। সোমবার সকালের দিকে পাকিস্তানের ঘোষণা দেওয়া এই চুক্তি এখনও অসম্পূর্ণ এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এটি চূড়ান্ত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে এই চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখা ইতোমধ্যে ইসরায়েলের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তিটি মূলত ইরানের সব অর্জনকে সুরক্ষিত করছে এবং ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়—তার নিজস্ব নিরাপত্তাকে বাতিল করে দিয়েছে।

ইসরায়েলি সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেছেন, এর অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিপর্যয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্যও একটি বড় ধাক্কা এই চুক্তি। নেতানিয়াহু একসময় প্রত্যাশা করেছিলেন, হামাস, হিজবুল্লাহ এবং তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানে বিজয়ী হয়ে আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে অংশ নেবেন। কিন্তু এর পরিবর্তে ইসরায়েলের মূল যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এখন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) বিশ্লেষক সিমা শাইন বলেন, ‘‘আমরা বেশ দীর্ঘ সময় ধরেই জানতাম, এটি এমন এক চুক্তি হতে যাচ্ছে; যা ইরানিদের বেশিরভাগ স্বার্থকে বিবেচনায় নেবে।’’

সাবেক এই ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক ইস্যুসহ ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এমন এক ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রাখা হয়েছে; যা আমাদের জানা নেই।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেসময় নেতানিয়াহু ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাত এবং দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নস্যাৎ করার কথা জানিয়েছিলেন। ইরানের বর্তমান সরকার ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

সিট্রিনোভিচ বলেন, পারমাণবিক প্রশ্নটি অমীমাংসিত রেখে দেওয়ার পাশাপাশি এই সংঘাতেরফলে ভবিষ্যতের কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, এর ফলে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর তেহরান কার্যত আরও শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সিট্রিনোভিচ বলেন, দিনের শেষে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার কোনও ক্ষমতা ইসরায়েলের নেই।

• মিস্টার ইরান
চুক্তিটি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে চূড়ান্ত চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন আশঙ্কায় লেবাননে হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নেতানিয়াহু সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘‘তিনি (নেতানিয়াহু) অত্যন্ত জটিল একজন মানুষ। সত্যি বলতে, এই চুক্তিটি করার জন্য আমাদের প্রতি তার অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকতো, তাহলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারতো না।’’

এই চুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। তার জোটের মিত্র ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইতোমধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইসরায়েল এই চুক্তি মানতে বাধ্য নয়।

ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ বৈরী ইতিহাসের কথা জানিয়ে সিট্রিনোভিচ বলেন, ‘‘এটি ইসরায়েলের, বিশেষ করে নেতানিয়াহুর জন্য একেবারে, একেবারে খারাপ একটি ঘটনা; যিনি কি না ‘মিস্টার ইরান’ নামে পরিচিত।

তিনি বলেন, সেই ‘মিস্টার ইরান’ বর্তমানে এমন এক চুক্তির মাঝে আটকে গেছেন; যা ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রায় কোনোটিই আমলে নেয়নি।

• নড়বড়ে অবস্থান
আলোচনায় ইসরায়েলের অনুপস্থিতি বিশ্লেষকদের অবাক না করলেও ওয়াশিংটনে দেশটির কমতে থাকা প্রভাব তাদের বেশ চমকে দিয়েছে। স্বতন্ত্র নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল হোরোভিৎজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ইসরায়েল কখনোই সরাসরি কোনও ভূমিকা পালন করেনি, বরং কেবল ওয়াশিংটনের মাধ্যমে আলোচনার ওপর প্রভাব খাটাতো।

তিনি বলেন, তবে যা আশ্চর্যজনক এবং ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের ম্লান হতে থাকা প্রভাবের ইঙ্গিত দেয় তা হলো, ট্রাম্প সম্ভবত ইসরায়েলের উদ্বেগগুলোকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন।
‘‘ট্রাম্প কেবল ইসরায়েলকে উপেক্ষাই করেননি, তিনি কার্যত ইসরায়েলের হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তা করেছেন কোনও পরামর্শ কিংবা এমনকি আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই। এখানে কার হাতে নিয়ন্ত্রণ এবং কার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, তা আমরা দেখতে পাচ্ছি।’’

ইসরায়েলি সামরিক বিশেষজ্ঞ মাইকেল মিলশটেইন বলেন, এই চুক্তিটি সব ফ্রন্টেই ইসরায়েলকে যুদ্ধের আগের চেয়ে আরও দুর্বল অবস্থানে ফেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েল এখন বড়জোর বলতে পারে, ‘‘ঠিক আছে, আমরা যুদ্ধবিরতি মেনে নিচ্ছি। তবে চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো, বিশেষ করে পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে আমাদের কিছু বলতে দেওয়া হোক।’’

‘‘ওয়াশিংটন এবং সামগ্রিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর ইসরায়েলের প্রভাব এখন সীমিত। নেতানিয়াহু আমাদের অত্যন্ত দুর্বল এক অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছেন।’’

ইসরায়েলি বাহিনীর পরিচালিত অন্য দুটি যুদ্ধক্ষেত্রের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে আমরা যেমন ইরানের সঙ্গে যেকোনও চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছি, আমার ধারণা খুব শিগগিরই লেবানন এবং শেষে গাজার ক্ষেত্রেও আমাদের তাই করতে হবে।’’

সূত্র: এএফপি।
 




মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল

মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল
ছবি সংগৃহীত।

হাজার হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে অভিবাসন দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসন সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসা লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপকহারে ভিসা বাতিল গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর শুরু হওয়া অভিবাসন দমন অভিযানেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীন সংখ্যক মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ফলস্বরূপ এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যাতে তাঁদের ভিসার শর্তাবলি মেনে চলেন এবং আমেরিকানদের বিপদে ফেলেন না, সেটি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজমের’ জন্য ১০০ জনেরও বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। তারা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবে, তাদের ভিসা বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। ওই সময় এটি একটি রেকর্ড ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা 




হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত

হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলতে দেয় ভারত সরকার। এ নিয়ে ঢাকা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানায়।

হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের দুইদিন পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত। আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এ সাংবাদিক। জবাবে তিনি প্রথমে দাবি করেন, হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর হাসিনা ওইদিন বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে যা যা বলেছেন সেটিতেও নয়াদিল্লির সমর্থন নেই।

রণধীর বলেন, “একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এতে সরকারের কোনো অবদান নেই। আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখা হাসিনা ও অন্যান্যদের কথার প্রতি ভারতের কোনো সমর্থন নেই উল্লেখ করে এ কূটনীতিক বলেছেন, “ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো কথাকেই (ভারত) সরকার সমর্থন করে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের ব্যাপারে দেওয়া কোনো মন্তব্য তো নয়ই।”

হাসিনাপুত্র সজিব ওয়াজেদ ওইদিন মন্তব্য করেন ভারতের পূর্ব দিকের অঞ্চল (বাংলাদেশ) এখন  পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে। এ ব্যাপারে রণধীরকে অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন জয় যে কথা বলেছে সেটিকে ভারত সমর্থন করে কি না, এ ব্যাপারে তারা কোনো কিছু করছেন কি না।

জবাবে রণধীর বলেন, “আমরা আমাদের একদম পাশের প্রতিবেশীর ওপর গভীর নজর রাখি, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেগুলো সেগুলোর ওপর। আর এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা সেগুলো নেই।”




থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭
ছবি সংগৃহীত।

থাইল্যান্ডে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ওই স্কুলের এক শিক্ষক এবং হামলাকারী নিজেও আছে।

আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলার একটি সুপরিচিত স্কুলে এই ঘটনা। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছিল।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

দেচরাপি কংদি আরও জানান, স্কুলভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে গুলি ছুড়েছিল ওই শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সে নিজে আত্মঘাতী হয়।

গুলি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা স্কুল থেকে সরে পড়েছিলেন।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।

সূত্র : এএফপি