চকরিয়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

চকরিয়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত

চকরিয়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা আর তৃণমূল নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চকরিয়ায় মুখর হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা দলের ঐক্য বজায় রেখে আগামী দিনের যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আবুল হাসেম, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মু. ফখরুদ্দীন ফরায়জী ও চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুর রহিম।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “আজ ১ সেপ্টেম্বর, প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দীর্ঘ দুই দশক পর মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন পরিবেশে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে এই ঐতিহাসিক দিনটি উদযাপন করছি। আজকের এই মাহেন্দ্রক্ষণে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, যার আপসহীন সংগ্রাম আমাদের অন্ধকার সময়ে পথ দেখিয়েছে। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমাদের অভিভাবক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে, যার দূরদর্শী নেতৃত্বে সব ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে বাংলাদেশ আজ আলোর পথে। দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। এই বিজয়ের মুহূর্তে আমাদের আরও নম্র হতে হবে।”

বক্তারা বলেন, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী) আসনের সংসদ সদস্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জননেতা সালাউদ্দিন আহমদের স্পষ্ট নির্দেশ—দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কোনো ধরনের অহংকার, ক্ষমতার অপব্যবহার বা শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাশত করা হবে না। আপনাদের জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে প্রমাণ করতে হবে যে, বিএনপিই এদেশের প্রকৃত জনবান্ধব ও কল্যাণকামী রাজনৈতিক দল।

বক্তারা আরও বলেন, রাজপথের যেকোনো ষড়যন্ত্র আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করব। একই সাথে, আগামী দিনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর জন্য আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের সামনে এনে দলকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। দলীয় নির্দেশ মেনে কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী সামাজিক কর্মসূচি, বিশেষ করে বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ অভিযান সফল করতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এম গিয়াসউদ্দিন, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ এস এম মনজুর, চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আমিন, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল কাঁকন, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টোসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, বিএনপি চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।




টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক

টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা পাচারকালে ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোররাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ হোয়াইক্যং বিওপির বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় এ অভিযান চালায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।

আটক যুবক উখিয়া থানাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৪, ব্লক-৬-এর বাসিন্দা নুরু বশরের ছেলে সৈয়দ কবির (২৫)।

বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি চালান আসছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে হোয়াইক্যং বিওপির বিশেষ টহল দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী ওবিএম পোস্ট-১ সংলগ্ন সুইচগেটের নিকটবর্তী নুর মোহাম্মদের মাছের ঘের নামক স্থানে কৌশলগত অবস্থান নেয়। এ সময় মিয়ানমারের দিক থেকে এক ব্যক্তিকে হাতে ব্যাগ নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবির সন্দেহ হয়।

বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে সে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। পরে তার হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ৩ কার্টন অর্থাৎ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সৈয়দ কবির স্বীকার করেন যে, সে উক্ত ইয়াবা মিয়ানমার সীমান্ত থেকে কম দামে কিনে বাংলাদেশে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছিল।

এ বিষয়ে ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহকারী এবং জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধেও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

আটক আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।




শাহপরীর দ্বীপে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

শাহপরীর দ্বীপে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরীর একটি বিশেষ দল শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় একটি সন্দেহজনক ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পাচারকারীরা নৌকাটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ভাসমান অবস্থায় একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগটি খুলে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।




ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যায় ২ নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা

ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যায় ২ নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চকরিয়া থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড়ভাই কাইছার হামিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। 

মামলায় রাজিয়া সুলতানা কে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত জিসান উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক।

মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই কাইছার হামিদ বলেন,এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জিসানকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। আমরা এজাহারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করেছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি,অবিলম্বে এই চিহ্নিত খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং আমার ভাই হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাকারা মাঝের স্টেশন এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত জিসানকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের চার ঘণ্টা পর সোমবার ভোররাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ,জিসানকে চকরিয়া পৌরসভা ৪ নম্বর ওয়ার্ড সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি বলেন,জিসান সংগঠনের একজন উদীয়মান নেতা ছিলেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে সাধারণ ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে চকরিয়ার রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান,মামলা রুজু হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।