জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন খেলাফত মজলিসের ইমরান ইসলামাবাদী
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৬ অপরাহ্ন

জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন খেলাফত মজলিসের ইমরান ইসলামাবাদী

জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন খেলাফত মজলিসের ইমরান ইসলামাবাদী
চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মুফতি ইমরান ইসলামাবাদী।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে জোটের স্বার্থে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মুফতি ইমরান ইসলামাবাদী। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।

ইমরান ইসলামাবাদী জানান, দশদলীয় জোটের মনোনয়ন পেলেও বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জোটের স্বার্থে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলাম।’

মুফতি ইমরান ইসলামাবাদীর সরে দাঁড়ানোর ফলে এই আসনে এখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়-এ। তাঁরা হলেন—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজাম, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ঐক্যজোটের এস এম শাহজাহান, জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মুহাম্মদ রেজাউল মোস্তফা এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) মনোনীত মো. এমরান চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাচন অফিসে কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলেও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।




প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের

প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের
ছবি সংগৃহীত।

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাতকানিয়া উপজেলার ৮ নম্বর ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের। বন্যার শুরু থেকেই রাত-দিন প্লাবিত ও গৃহহীন মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে ত্রাণসহায়তা প্রদান—সব ক্ষেত্রেই তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ ও নিরলস কর্মতৎপরতায় ঢেমশার সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢেমশা ইউনিয়নে বন্যায় যখন বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে, তখন থেকেই মাঠে নামেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের। তিনি নিজে পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারগুলোকে উদ্ধার করে বিভিন্ন নিরাপদ আশ্রয়স্থলে থাকার সুব্যবস্থা করেন। শুধু আশ্রয় দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বন্যাকবলিত এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে চাল ও শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করছেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এই ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খোলসামার পাড়ার বাসিন্দা ইসমাইল বলেন, "দেশ স্বাধীনের পর থেকে আমরা আমাদের এলাকায় এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল চেয়ারম্যান আর দেখিনি। বিপদের দিনে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আগামী ইউপি নির্বাচনে তাঁর মতো একজন যোগ্য ও মানবিক প্রার্থীকে পেলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঠিক প্রতিফলন ঘটবে।"

ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তিনি ইতিমধ্যে বন্যাকবলিত অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ১২ টন চাল বিতরণ করেছেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই তিনি আরও কয়েক ধাপে ত্রাণ ও খাদ্যসহায়তা বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

জনপ্রতিনিধি হিসেবে আবু তাহেরের এমন সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল ভূমিকাকে ঢেমশা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বেও তাঁকে অগ্রভাগে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।




বাঁশখালীতে ১ হাজার ২২৪ পিস ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

বাঁশখালীতে ১ হাজার ২২৪ পিস ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঁশখালীতে উদ্ধার করা ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১ হাজার ২২৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত সাড় আটটার দিকে বাঁশখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মহাজনঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স শিবা মেডিকোর সামনে থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি নম্বরবিহীন সাদা ও নীল রঙের রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেলে থাকা চালক ও আরোহীকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১ হাজার ২২৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ইয়াবা ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করার পাশাপাশি ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের করিম উদ্দীনের ছেলে শাহ আলম (৩০) ও কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে রমজান আলী (২৩)।

বাঁশখালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোহাম্মদ আরিফ জানান, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।




আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশা অ্যামচেমের

আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশা অ্যামচেমের
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও এগিয়ে নিতে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আনতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অ্যামচেমের নেতারা এই প্রত্যাশার কথা জানান। অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেয়।

সাক্ষাৎকালে অ্যামচেম জানায়, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের কর রাজস্বে ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে। বিগত বছরগুলোতে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে উল্লেখ করে প্রতিনিধিদল আরও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের অংশীদারত্ব কামনা করে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের অগ্রগতির প্রশংসা করে অ্যামচেম। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংস্কার প্যাকেজের আওতায় নির্ধারিত সময়ে অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের ডিজিটাইজেশন, কমপ্লায়েন্সের চাপ কমানো, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণের মতো বাস্তবমুখী পদক্ষেপগুলোকে তারা স্বাগত জানায়।

পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে পিডিপিএ ও এনডিজিএ প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন, এআই ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোকে একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে অ্যামচেম প্রযুক্তি, এআই, ক্লাউড প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আর্থিক খাতের আধুনিকায়নের মতো ক্ষেত্রগুলো নিয়ে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য অ্যামচেমের পক্ষ থেকে 'ডিজিটাল ইকোনমি অ্যাডভাইজরি ফোরাম' বা টাস্কফোর্স এবং 'পাবলিক-প্রাইভেট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল' গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া ৩০তম ইউএস ট্রেড শো-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

অ্যামচেমের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। নীতির স্পষ্টতা, দক্ষ প্রশাসন এবং ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে উল্লেখ করে তিনি সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে অ্যামচেমের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে সরকারের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে অ্যামচেম প্রতিনিধিদলে সহসভাপতি আলা উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ রাসেল আল মামুন, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, আতাউর রহিম চৌধুরী এবং নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদ অংশ নেন।