খুটাখালীতে চাঁদা না দেওয়ায় আমন চাষে বাধা ও হামলা
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

খুটাখালীতে চাঁদা না দেওয়ায় আমন চাষে বাধা ও হামলা

খুটাখালীতে চাঁদা না দেওয়ায় আমন চাষে বাধা ও হামলা
ছবি সংগৃহীত।

চকরিয়ার খুটাখালীতে দীর্ঘ ৩০ বছরের স্বত্বদখলীয় আবাদি জমিতে চাঁদার দাবিতে আমন চাষে বাধা দিচ্ছে একটি সন্ত্রাসী চক্র। গত ১০ আগস্ট দুপুর ১টায় জমির মালিক আমন চাষ করতে গেলে সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে জমির মালিক হাজি রমজান আলী সওদাগর আহত হয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, চলতি বছর আমন চাষের জন্য জমি তৈরি শেষে চারা রোপণ করতে গেলে খুটাখালীর পূর্বপাড়ার হাফেজ আহমদের ছেলে আবদুল মালেক, মাইজপাড়ার ইসলাম আহমদের ছেলে আবদুল মান্নান এবং মৌলভি ফরিদের ছেলে সালমান বিন ফরিদের নেতৃত্বে একদল লোক আকস্মিক সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

হামলার শিকার রমজান আলী জানান, চক্রটি ইতিপূর্বে তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আমন চাষে বাধা দিচ্ছে এবং হামলা চালিয়েছে। চক্রটির কাছে এলাকার সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খুটাখালী মৌজার হাফেজখানার দক্ষিণ বিলে ১৯৯৫ সালে ক্রয়সূত্রে ১০ শতক জমির মালিক হন স্থানীয় মরহুম তমিম গোলালের ছেলে হাজি রমজান আলী। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ১৩৩৪ নম্বর দলিল ও ৭৯২ নম্বর খতিয়ানমূলে তিনি ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু তাঁর মালিকানাধীন জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে স্থানীয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্র তাঁকে বাধা দেয় এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তরা দখলবাজ ও চাঁদাবাজ শ্রেণির লোক। এলাকার নানা অপরাধীর সঙ্গে তাদের গভীর সখ্য রয়েছে। খুটাখালীর প্রায় সব ধরনের অপরাধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তারা জড়িত। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুটাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমান জানান, তিনি দুদিন ধরে অসুস্থ, বাড়িতেই আছেন। বিষয়টি তাঁকে কেউ অবহিত করেনি।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানান, খুটাখালীতে আমন চাষে বাধা ও হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ঈদগাঁও রেঞ্জের উদ্যোগে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

ঈদগাঁও রেঞ্জের উদ্যোগে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

হাতির সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে খাদ্যসংকটসহ নানা কারণে হাতি লোকালয়ে চলে আসছে। হাতির চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা, আবাসস্থল ধ্বংস না করা, হাতি না মারা এবং হাতির কাছাকাছি গিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে জীবনের ঝুঁকি না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বন কর্মকর্তারা।

১২ আগস্ট সকালে বিশ্ব হাতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে কক্সবাজারের ঈদগাঁও রেঞ্জের উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যালি ও আলোচনা সভায় বন কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন।

নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ ও ঈদগাঁও উপজেলা বন বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক নুর হোছাইন নুরী।

ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক রাশিক আহসান, ঈদগড় রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌকির হাসান হৃদয়, ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কুদ্দুসুর রহমান, ভোমরিয়াঘোনা বিট কর্মকর্তা ফরহাদ বিন বেলাল, ঈদগড় বিট কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মিয়াজি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ফুলছড়ি ও ঈদগাঁও রেঞ্জের কর্মচারী, ভিলেজার, ইআরটি দলের সদস্য, হেডম্যানসহ বিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, ‘নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় হাতিকে বাঁচাতে হবে। মানুষের প্রয়োজনেই বন উজাড় করা হয়েছে। ফলে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাবারের উৎস সংকুচিত হচ্ছে। তাই হাতির আবাসস্থল রক্ষা এবং বন সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

ঈদগড় রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌকির হাসান হৃদয় জানান, হাতি দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ। হাতি রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই হাতিকে কোনোভাবেই মেরে ফেলা যাবে না; সবাইকে মিলেমিশে হাতি বাঁচাতে হবে।

আলোচনা সভার আগে ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে শিক্ষার্থী, বন বিভাগের কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বনের ওপর নির্ভরশীল উপকারভোগীরা অংশ নেন।




সরকারি হাসপাতালে সেবার সংকট, ঝুঁকি নিয়ে ধাত্রীর দিকে ঝুঁকছেন প্রসূতিরা

সরকারি হাসপাতালে সেবার সংকট, ঝুঁকি নিয়ে ধাত্রীর দিকে ঝুঁকছেন প্রসূতিরা
ছবি সংগৃহীত।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের পরিবর্তে ধাত্রীদের মাধ্যমে প্রসূতিদের চিকিৎসা ও প্রসব করানোর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া এবং বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে অতিরিক্ত খরচের কারণে ঝুঁকি জেনেও অনেকে ধাত্রীদের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

অভিযোগের তীর হোসনে আরা বেগম নামের এক ধাত্রীর দিকে। স্থানীয়দের দাবি, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশে একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে প্রসূতিদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে নিয়মিত প্রসব করানোর পাশাপাশি জটিল রোগীদের শেষ মুহূর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক রোগীকে তুলনামূলক স্বাভাবিক অবস্থায় ওই বাসায় নেওয়া হলেও পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। এতে প্রসূতি ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

শুধু হোসনে আরা বেগম নন, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে আরও কয়েকজন ধাত্রী নিয়মিত প্রসূতিদের সেবা ও প্রসব করাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসকসংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রসবসহ বিভিন্ন চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বেসরকারি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে অনেক পরিবার তুলনামূলক কম খরচের আশায় ধাত্রীদের দ্বারস্থ হচ্ছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অনেকে বাসায় প্রসবের পথ বেছে নিচ্ছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, প্রসূতি ও নবজাতকের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত চিকিৎসক ছাড়া কেউ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করলে তার দায়ভার কে নেবে?

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা, বৈধ অনুমোদন এবং কোন ধরনের চিকিৎসা বা প্রসবসেবা দেওয়ার আইনগত অধিকার রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে হোসনে আরা বেগম দাবি করেন, তিনি প্রসবপূর্ব বা প্রসবপরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা (চেকআপ) ছাড়া কোনো চিকিৎসা করান না।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, ধাত্রীরা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার আওতাধীন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভাবে অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কক্সবাজারের জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাবের আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসূতি ও নবজাতকের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি অনুমোদনহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।