দলিল পুড়িয়ে সমালোচনার মুখে চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন

দলিল পুড়িয়ে সমালোচনার মুখে চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার

দলিল পুড়িয়ে সমালোচনার মুখে চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দাবিদারবিহীন প্রায় ৩২শ’ দলিল পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলিল সংরক্ষণের নানা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়িয়ে ফেলা হলো এ নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুনে পুড়িয়ে ফেলার তীব্র সমালোচনা চলছে ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সালাহউদ্দিনের উপস্থিতিতে ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দাবিদারবিহীন এসব দলিল পোড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব দলিলের কোনো দাবিদার ছিল না। তবে দলিল পোড়ানোর প্রায় দুই ঘণ্টা পর একজন দলিলগ্রহীতা তাঁর দলিলের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বুধবার বিকেল ৫টায় চকরিয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মোহাম্মদ আলম নামের এক ব্যক্তি। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে ১৩৭৫ নম্বর দলিলটি করার জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ৫-৬ বার যোগাযোগ করেও তিনি দলিলটি পাননি। তাঁর দাবি, দলিল পুড়িয়ে ফেলা হবে, এমন কোনো তথ্য বা নোটিশও তাকে জানানো হয়নি।

মোহাম্মদ আলম বলেন, ৫-৬ বার যোগাযোগ করেও দলিলটি দেওয়া হয়নি। তারা দলিল পুড়িয়ে দেবে এ কথাও কোনো মাধ্যমে জানায়নি। আজ জানতে পারলাম দলিলটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দলিল পোড়ানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস না করে সংরক্ষণ বা সংশ্লিষ্ট দলিলগ্রহীতাদের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেত কি না।

দলিল পোড়ানোর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দলিলগ্রহীতাদের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানোর ব্যবস্থা করার পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে ।

সচেতন মহলের অনেকে মনে করছেন, দলিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করা এবং নথিগুলোর প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা জরুরি ছিল। একই সঙ্গে সংরক্ষণাগার, ডিজিটাল সংরক্ষণ কিংবা অন্য কোনো নিরাপদ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব নথি সংরক্ষণের সুযোগ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সালাহউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,পুড়ানোর পূর্বে মাইকিং, নোটিশ ও গণমাধ্যমে প্রচার করেছি যাতে দলিলের মালিকরা নিয়ে যেতে পারে।

দলিলগুলো কী প্রক্রিয়ায় ‘দাবিদারবিহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দলিলগ্রহীতাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং ৩২শ’ দলিল পোড়ানোর আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।




টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক

টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা পাচারকালে ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোররাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ হোয়াইক্যং বিওপির বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় এ অভিযান চালায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।

আটক যুবক উখিয়া থানাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৪, ব্লক-৬-এর বাসিন্দা নুরু বশরের ছেলে সৈয়দ কবির (২৫)।

বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি চালান আসছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে হোয়াইক্যং বিওপির বিশেষ টহল দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী ওবিএম পোস্ট-১ সংলগ্ন সুইচগেটের নিকটবর্তী নুর মোহাম্মদের মাছের ঘের নামক স্থানে কৌশলগত অবস্থান নেয়। এ সময় মিয়ানমারের দিক থেকে এক ব্যক্তিকে হাতে ব্যাগ নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবির সন্দেহ হয়।

বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে সে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। পরে তার হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ৩ কার্টন অর্থাৎ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সৈয়দ কবির স্বীকার করেন যে, সে উক্ত ইয়াবা মিয়ানমার সীমান্ত থেকে কম দামে কিনে বাংলাদেশে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছিল।

এ বিষয়ে ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহকারী এবং জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধেও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

আটক আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।




শাহপরীর দ্বীপে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

শাহপরীর দ্বীপে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরীর একটি বিশেষ দল শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় একটি সন্দেহজনক ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পাচারকারীরা নৌকাটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ভাসমান অবস্থায় একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগটি খুলে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।




ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যায় ২ নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা

ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যায় ২ নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চকরিয়া থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড়ভাই কাইছার হামিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। 

মামলায় রাজিয়া সুলতানা কে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত জিসান উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক।

মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই কাইছার হামিদ বলেন,এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জিসানকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। আমরা এজাহারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করেছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি,অবিলম্বে এই চিহ্নিত খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং আমার ভাই হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাকারা মাঝের স্টেশন এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত জিসানকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের চার ঘণ্টা পর সোমবার ভোররাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ,জিসানকে চকরিয়া পৌরসভা ৪ নম্বর ওয়ার্ড সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি বলেন,জিসান সংগঠনের একজন উদীয়মান নেতা ছিলেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে সাধারণ ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে চকরিয়ার রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান,মামলা রুজু হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।