ফ্যাসিবাদের আমলে মানুষকে গুম করার আগে সংবাদ গুম করা হতো: পিআইবির মহাপরিচালক
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

ফ্যাসিবাদের আমলে মানুষকে গুম করার আগে সংবাদ গুম করা হতো: পিআইবির মহাপরিচালক

ফ্যাসিবাদের আমলে মানুষকে গুম করার আগে সংবাদ গুম করা হতো: পিআইবির মহাপরিচালক
ছবি সংগৃহীত।

বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের তিন দিনব্যাপী ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সফল সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) আয়োজনে ও তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে কক্সবাজারে এই কর্মশালার সমাপনী পর্ব সম্পন্ন হয়।

সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলীর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান।

সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর। সমগ্র কর্মশালাটি সমন্বয় করেন ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন।

গত ৩০ আগস্ট শুরু হওয়া এই নিবিড় কর্মশালায় কক্সবাজারে কর্মরত ৩৫ জন সাংবাদিক অংশ নেন। তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণ দেন শিক্ষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ড. জামিল খান, পিআইবির প্রোগ্রাম অফিসার আবু সুফিয়ান ও ফ্যাক্টচেকার রিদওয়ানুল ইসলাম।

কর্মশালায় সাংবাদিকদের আধুনিক সাংবাদিকতার নানা কৌশল ও ব্যবহারিক দিক শেখানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:

  • প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং ও এআই টুলস: প্রম্পট লিখনের কৌশল, নোটবুক এলএলএম, গুগল ট্রেন্ডস এবং এআই ব্যবহার করে সংবাদভিত্তিক ছবি ও ভিডিও তৈরি।

  • সাইবার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা: গণমাধ্যম সাক্ষরতা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা এবং ডেটা ব্যাকআপ ও রিকভারি।

  • তথ্য যাচাই ও নৈতিকতা: ভুয়া তথ্য, ছবি ও ভিডিও যাচাইয়ের আধুনিক মাধ্যম, ডিপফেক শনাক্তকরণ এবং এআই ব্যবহারে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতা।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের এই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন সংবাদ পরিবেশনে নতুন মাত্রা যোগ করছে, তেমনি গুজবের বিস্তারও বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা বজায় রাখতে ফ্যাক্ট চেকিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের আমলে মানুষকে গুম করার আগে সংবাদ গুম করা হতো। অন্তত সেটাও এখন রক্ষা পেয়েছে। সরকার ও রাষ্ট্রকে ব্যর্থ দেখাতে সরকারবিরোধীরা বিভিন্নভাবে এআইয়ের মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এআই দিয়ে যেমন অপপ্রচার ছড়ানো যায়, তেমনি ভালো কাজও করা যায়। প্রযুক্তির এই যুগে একদিন হয়তো প্রিন্ট মিডিয়া থাকবে না, তবে গণমাধ্যম ও এআই থাকবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একসময় গণমাধ্যমের ওপর মানুষ ভরসা হারিয়ে ফেলেছিল; তাই আবারও সাংবাদিকদের সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। সত্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে আবারও মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।

এই প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগত সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে অতিথিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক

টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা পাচারকালে ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোররাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ হোয়াইক্যং বিওপির বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় এ অভিযান চালায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।

আটক যুবক উখিয়া থানাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৪, ব্লক-৬-এর বাসিন্দা নুরু বশরের ছেলে সৈয়দ কবির (২৫)।

বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি চালান আসছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে হোয়াইক্যং বিওপির বিশেষ টহল দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী ওবিএম পোস্ট-১ সংলগ্ন সুইচগেটের নিকটবর্তী নুর মোহাম্মদের মাছের ঘের নামক স্থানে কৌশলগত অবস্থান নেয়। এ সময় মিয়ানমারের দিক থেকে এক ব্যক্তিকে হাতে ব্যাগ নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবির সন্দেহ হয়।

বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে সে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। পরে তার হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ৩ কার্টন অর্থাৎ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সৈয়দ কবির স্বীকার করেন যে, সে উক্ত ইয়াবা মিয়ানমার সীমান্ত থেকে কম দামে কিনে বাংলাদেশে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছিল।

এ বিষয়ে ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহকারী এবং জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধেও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

আটক আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।




শাহপরীর দ্বীপে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

শাহপরীর দ্বীপে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরীর একটি বিশেষ দল শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় একটি সন্দেহজনক ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পাচারকারীরা নৌকাটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ভাসমান অবস্থায় একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগটি খুলে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।




ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যায় ২ নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা

ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যায় ২ নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চকরিয়া থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড়ভাই কাইছার হামিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। 

মামলায় রাজিয়া সুলতানা কে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত জিসান উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক।

মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই কাইছার হামিদ বলেন,এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জিসানকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। আমরা এজাহারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করেছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি,অবিলম্বে এই চিহ্নিত খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং আমার ভাই হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাকারা মাঝের স্টেশন এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত জিসানকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের চার ঘণ্টা পর সোমবার ভোররাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ,জিসানকে চকরিয়া পৌরসভা ৪ নম্বর ওয়ার্ড সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি বলেন,জিসান সংগঠনের একজন উদীয়মান নেতা ছিলেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে সাধারণ ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে চকরিয়ার রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান,মামলা রুজু হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।