ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশ, এনপিএসবি থেকে ‘ডিজিপে’ বিচ্ছিন্ন করলো বাংলাদেশ ব্যাংক
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন

ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশ, এনপিএসবি থেকে ‘ডিজিপে’ বিচ্ছিন্ন করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশ, এনপিএসবি থেকে ‘ডিজিপে’ বিচ্ছিন্ন করলো বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি সংগৃহীত।

ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশসহ বেশকিছু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘ডিজিপে’কে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানান, যাচাই প্রক্রিয়ায় বেশকিছু নিরাপত্তা ত্রুটি পাওয়ার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে ডিজিপে’র দাবি, কোনো আলোচনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে এনপিএসবির মাধ্যমে তাদের লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের অন্যান্য সেবা চালু আছে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, সাইবার নিরাপত্তা ও নাগরিকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ উঠলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেটিকে তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।
তদন্তে সময় লাগে বলে প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে ডিজিপেকে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

ডিজিপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ জানান, তাদের জনবল ও ভারতে থাকা ডেভেলপার নিয়ে মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব। তাদের ডেটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদে আলাদা কোনো কর্মী নেই। অন্য দায়িত্ব পালন করা এক কর্মীই এটি সামলান। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি রয়েছে। প্রতিটি পদের জন্য আলাদা কর্মী চায় তারা।

ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিজিপের সিস্টেম ভারতের একটি গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) দল তৈরি করেছে। ভারতীয় ডেভেলপারদের শুধু নির্ধারিত উন্নয়ন কাজের জন্যই সিস্টেমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রাশেদ মাহমুদের ভাষ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ভারতীয়’ শুনেই আপত্তি জানিয়েছে। তারা প্রশ্ন করেছে, কেন প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ বাংলাদেশে আনা হচ্ছে না। তার মতে, বাংলাদেশে কাজ করা অনেক কোম্পানির সিস্টেম বা ডেটা ভারতসহ অন্যান্য দেশে রয়েছে।




তিতাসে হবে দুটি নতুন গ্যাসকূপ: একনেকে ৫৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

তিতাসে হবে দুটি নতুন গ্যাসকূপ: একনেকে ৫৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খননে ৫৯২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে। এ দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের (২০২৭) একনেকের ষষ্ঠ সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত প্রকল্প। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

তিতাসে দুটি নতুন গ্যাসকূপ খনন

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ (অ্যাপ্রেইজাল-কাম-ডেভেলপমেন্ট ওয়েল) খনন করা হবে। এ জন্য ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হবে।

দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপর ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন দুটি কূপ থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যেতে পারে। কোম্পানির বর্তমান কূপমুখের দামে এসব গ্যাস ও কনডেনসেটের আনুমানিক মূল্য ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং কনডেনসেটের মূলত ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের দামে ১০ বছরে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

বিজিএফসিএল বর্তমানে তাদের পরিচালনাধীন ছয়টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র তিতাসের খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে পরিচালিত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজিএফসিএল চীনের ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেডকে এসব জরিপের তথ্য পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ১৬টি ইনফিল কূপ এবং সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে স্থলভাগে ১৫০টি কূপ খননের সরকারি পরিকল্পনার আওতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ দুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে দুটি কূপ খনন, দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট কাজ করা হবে।

২০২৬ সালে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে। পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়বে, শিল্পের বিকাশে সহায়তা করবে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় ব্যয় যৌক্তিকীকরণের সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যান্য প্রকল্প

এদিনের একনেক সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প এবং প্রতিরক্ষা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি করে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ২০৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় খাল পুনঃখনন এবং নির্বাচিত পৌরসভাগুলোতে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ৭৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় আরও তিনটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো ৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট-স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প, ২ হাজার ৫৬৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (এসআইডিপি) এবং ৩ হাজার ৯৫১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ (তৃতীয় সংশোধিত)।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত যানবাহন ও অপারেশনাল যানবাহন কেনার দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় বি-টাইপ কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন নির্মাণ করবে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৭৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রাজধানীর জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০০ কোটি ১১ লাখ টাকা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট (ইনমাস) স্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন পেয়েছে।

এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পটি তৃতীয়বারের মতো সংশোধন করে বাস্তবায়ন করবে। এ পর্যায়ে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৫২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এদিকে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের পাঁচটি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন বলে একনেক সভায় জানানো হয়।

প্রকল্পগুলো হলো, দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হৃদ্রোগ চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় যান চলাচলের অবকাঠামো ও সড়ক নিরাপত্তার উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত), ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন (প্রথম সংশোধিত) এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে আধুনিক যানবাহন ও সরঞ্জাম কেনা।

সভায় মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা সভায় অংশ নেন।

বাসস




সোনার দাম আরও বাড়লো, ভরি কত?

সোনার দাম আরও বাড়লো, ভরি কত?
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ২২৪ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ায় এই দাম বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ২টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বুধবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সোনার দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।




শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা

শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা
ছবি সংগৃহীত।

শ্রম অসন্তোষের জেরে আজ মঙ্গলবারও দেশের ৪৬৯টি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানা বন্ধ রয়েছে। চলমান অস্থিরতায় সময়মতো পণ্য রপ্তানি এবং ক্রয়াদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) বাতিল হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কারখানার মালিকরা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সূত্র জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে কয়েকদিন ধরে পোশাক শ্রমিকরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সুপারিশ দেওয়ার লক্ষ্যে গত ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করলেও আন্দোলন থামেনি।

বরং কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন শ্রমিকদের একটি অংশ। এসময় বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর এবং কারখানার গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে পোশাক কারখানার মালিকদের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠাতে না পারলে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে এ ধরনের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

মজুরি নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বিরোধের দ্রুত সমাধান এবং কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এখন শিল্প-সংশ্লিষ্টদের প্রধান প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জাগো নিউজকে বলেন, শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ড তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণে সুপারিশ করবে। তাই মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণের জন্য সরকার যখন একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তখন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় আন্দোলন ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হবে। এতে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা মালিকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ফজলে শামীম এহসান আরও বলেন, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি ও আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একবার ক্রেতাদের আস্থায় সংকট তৈরি হলে তা পুনরুদ্ধার করা সহজ হবে না। এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু কারখানার মালিকদের ওপর নয়, পুরো শিল্পের ওপর পড়বে।

শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভাঙচুর ও সহিংসতার পথ পরিহার করে শ্রমিকদের কাজে ফেরা উচিত। কোনোভাবেই শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত করা সমীচীন নয়। কারণ, শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব শ্রমিকদের ওপরও পড়বে। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে কর্মসংস্থান, আয় ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে মজুরি বোর্ডের সুপারিশের জন্য অপেক্ষা করা এবং শিল্পের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।