সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করছে: নাহিদ ইসলাম
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন

সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করছে: নাহিদ ইসলাম

সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করছে: নাহিদ ইসলাম
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, চলমান পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন অত্যন্ত ন্যায্য ও যৌক্তিক। সরকার ভুলভাবে এই আন্দোলন মোকাবিলা করার কারণে আজ দেশের পরিস্থিতি এমন অবস্থায় এসেছে। সরকার আন্দোলনে কর্ণপাত না করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তা থামানোর চেষ্টা করছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাজীপুরে জাতীয় শ্রমিক শক্তি আয়োজিত গায়েবানা জানাজায় হামলায় গুরুতর আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই আন্দোলন শুরু হয়েছে আরও এক-দুই সপ্তাহ আগে। আন্দোলন শুরুর এক সপ্তাহ পর মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মজুরি বোর্ড গঠনের পর তিন দিনেও কোনো সভা করেনি। আজ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথম সভা করেছে। এর মাধ্যমে সরকারের অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এটি কোনো শ্রমিক আন্দোলনই নয়। অর্থাৎ সরকার এখন পর্যন্ত এই আন্দোলনকে ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক দাবির আন্দোলন হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। বরং বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব দিয়ে আন্দোলনকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে।

নাহিদ বলেন, এই আন্দোলনে সহিংসতা শুরু করেছে বিএনপি নিজেই। শ্রমিকদের ওপর রাষ্ট্রীয় সহিংসতা হয়েছে। সরকারদলীয় সহিংসতা ও নিপীড়নও চলমান রয়েছে। গতকাল বিএনপির লোকজনকে হকিস্টিক ও স্টাম্প হাতে রাস্তায় নামানো হয়েছে। তারা শ্রমিকদের পেটানোর জন্য রাস্তায় নেমেছেন। বিএনপিকে বা এসব লোককে হকিস্টিক হাতে মাঠে নামার দায়িত্ব কে দিয়েছে? স্পষ্টতই দলীয়ভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ ও দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক কলোনিগুলোতে গিয়ে শ্রমিকদের খোঁজা হচ্ছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অসংখ্য শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মামলা দেওয়া হচ্ছে। বিগত আমলে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনামলে যেভাবে শ্রমিক আন্দোলন দমন করা হতো, ঠিক একই কায়দায় এই সরকার কর্তৃত্ববাদী পদ্ধতিতে শ্রমিকদের আন্দোলন দমন করছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, পোশাকশ্রমিক তৌফিককে হত্যা করা হয়েছে। তার স্মরণে গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি ছিল। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে পুলিশ, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ন্যক্কারজনকভাবে হামলা করেছে। গুলি চালানো হয়েছে, সাউন্ড গ্রেনেড মারা হয়েছে। এতে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়কসহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ১৭ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে আমরা ঢাকা মেডিকেলে এসেছিলাম।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেকোনো আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের ভূত দেখানো হতো। এখন বিএনপি যেকোনো আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ভূত দেখছে। এভাবে আন্দোলনের ন্যায্যতাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট, তারা বাংলাদেশের শত্রু। তারা যেকোনো পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু সেই সুযোগ কারা করে দিয়েছে? গত সাত মাস ধরে বিএনপি সেই সুযোগ করে দিচ্ছে। গাজীপুর, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগকে কারা প্রশ্রয় দিচ্ছে, সেটি স্পষ্ট। সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা শুরুর সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায়ও সঠিক বিচার পাওয়া যায়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, এসব ক্ষেত্রে বিএনপির লোকজন আওয়ামী লীগকে প্রশ্রয় দিয়েছে। বিচারের প্রশ্নে বিএনপি আপস করেছে এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে জাতীয় ঐক্যমত ছিল, তা ভঙ্গ করেছে। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বিএনপি। ফলে এই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় সরকার ও বিএনপিকেই নিতে হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখনো সময় আছে, কোনো ধরনের টালবাহানা না করে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন। তাঁদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলুন, আলোচনায় আসুন। কোনো ধরনের প্রতারণার চেষ্টা করবেন না। যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, সেটি ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ। ওই বোর্ডের ওপর শ্রমিকরা আস্থা রাখতে পারছেন না।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকারের আশ্বাসের প্রতিও শ্রমিকদের আস্থা নেই। কারণ, সরকার আগে এই কাজ না করে তাঁদের ওপর নির্যাতন-দমন-পীড়ন চালিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে। এখনো তা চলমান রয়েছে। এই সরকার ৭০ শতাংশ জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ফলে সমাজের কোনো অংশই সরকারের বক্তব্যের ওপর আস্থা রাখবে না, এটাই স্বাভাবিক।

নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে এই সরকার বলেছিল, তারা জুলাই সনদ মেনে নেবে ও বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু নির্বাচনের পরে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। ফলে শ্রমিকরা কোন ভরসায় সরকারের ওপর বিশ্বাস করে রাজপথ ছেড়ে দেবেন? এ কারণেই হয়তো তারা রাজপথ ছাড়ছেন না।

শ্রমিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য, অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে আছি। আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট সহিংসতা করে এর সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে বিএনপি রাষ্ট্রীয় নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে শ্রমিকদের দমন করার চেষ্টা করবে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে।

শ্রমিকদের পক্ষে তিন দফা দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের এখন সুস্পষ্ট দাবি হচ্ছে, প্রথমত, যে শ্রমিক মারা গেছেন, সেই শ্রমিক তৌফিককে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিচার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, গ্রেপ্তার ও অন্যায়ভাবে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করে শ্রমিক নেতাদের এবং শ্রমিক কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তৃতীয়ত, এই আন্দোলন শেষ হওয়ার পর শ্রমিকদের ছাঁটাই, মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার কিংবা ভয়ভীতি দেখানো যাবে না। তাদের কোনোভাবেই ব্ল্যাকলিস্ট করা যাবে না। শ্রমিকদের হুমকি দেওয়া, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কিংবা চাকরিচ্যুত করা যাবে না।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো যতটুকু সম্ভব, সরকারকে আন্তরিকভাবে ঘোষণা করতে হবে। এই আন্দোলন মালিকদের বিরুদ্ধে নয়। বাংলাদেশের পোশাকশিল্প অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত। এই শিল্পের শ্রমিকরা কখনোই শিল্পের বিরুদ্ধে যাবেন না। পোশাকশিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে শ্রমিকদেরও টিকিয়ে রাখতে হবে। তাঁদের উৎপাদনশীল অবস্থায় রাখতে হবে, বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন শ্রমিকদের বেঁচে থাকার লড়াই। মালিক, পোশাকশিল্প, শ্রমিক ও সব রাজনৈতিক পক্ষকে নিয়ে সরকারকে অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু সমাধানে আসতে হবে।




এলপিজির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

এলপিজির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো হয়েছে: গোলাম পরওয়ার
ছবি সংগৃহীত।

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা তখন এলপিজির দাম আবারও অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো জনজীবনে নতুন করে দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে। এক মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পারিবারিক ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এ ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু দাম বাড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীতেই ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অথচ এ বিষয়ে কার্যকর বাজার তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বৃদ্ধির অজুহাতে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সাধারণ জনগণের ওপর চাপানো যাবে না। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে বারবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সরকারের দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে না।

তিনি বলেন, অবিলম্বে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করা, সিন্ডিকেট ও অযৌক্তিক মুনাফা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত বাজার তদারকির জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।




গঙ্গার পানি না এলে ভারতের পণ্যও বাংলাদেশে ঢুকবে না: নাহিদ ইসলাম

গঙ্গার পানি না এলে ভারতের পণ্যও বাংলাদেশে ঢুকবে না: নাহিদ ইসলাম
ছবি সংগৃহীত।

গঙ্গা নদীর পানি বাংলাদেশে না এলে ভারতীয় পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে যদি পানি না আসে তাহলে কোনো করিডোর হবে না। কোনো ট্রানজিট হবে না। ভারতীয় কোনো চ্যানেলও বাংলাদেশে চলবে না।

তিনি বলেন, মাওলানা ভাসানীর ইতিহাসকে স্মরণ করতে চাই। তিনি ঐতিহাসিক ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ করেছিলেন। ইনশাআল্লাহ, যদি এরকম কিছু হয় আমরা আবারও লংমার্চের জন্য প্রস্তুত আছি।

রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় যুব সম্মেলন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার এখন বিভিন্ন দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে ঋণের জন্য। কিন্তু এই সরকারকে কেউ বিশ্বাস করছে না, ঋণও দিচ্ছে না। জাপান আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র, জাপান বাংলাদেশে অতীতেও ইনভেস্ট করেছে। কিন্তু এই মাতারবাড়ি নিয়ে সরকার জাপানের সঙ্গে কী কী চুক্তি করছে তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। কোনো ধরনের ধোঁয়াশা না রেখে সংসদে আলোচনা ব্যতীত আমরা বাংলাদেশে কোনো জাতীয় চুক্তি পাস করতে দেবো না।

‘এই চুক্তিতে ভারতকে কোনো ধরনের অবৈধ করিডোর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বাংলাদেশের জনগণ রুখে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন নিয়ে (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সালাহউদ্দিন আহমদ মতামত চেয়েছেন। উনার কাছে আমাদের কোনো মতামত দেওয়ার কিছু নাই। উনি কে মতামত চাওয়ার? তারা এখন আলোচনার জন্য বিরোধী দলকে যেতে বলছে, কিন্তু আলোচনা নির্বাচনের আগেই কমপ্লিট হয়ে গিয়েছে। নতুন করে আর কোনো আলোচনার কিছু নাই।

তিনি বলেন, এখন হচ্ছে বাস্তবায়নের সময়। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধানকে সংস্কার করতে হবে। এর অন্যথা কিছু হলে জনগণ সেটা মানবে না, বিরোধী দল সেটা মানবে না, তরুণ প্রজন্ম ও শ্রমিকরা সেটা মানবে না।

শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, শ্রমিকরা ন‍্যায‍্য মজুরির জন্য আন্দোলন করছে। সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়িয়েছে। কিন্তু শ্রমিক আর বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়েনি। আমরা এ বৈষম্য মানি না। অবিলম্বে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এতে সভাপতিত্ব করেন যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন যুবশক্তির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল।




সরকার পতন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের

সরকার পতন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের
ছবি সংগৃহীত।

সরকারের উদ্দেশে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আপনারা গণভোটের গণরায় অস্বীকার করেছেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। এর মাশুল আপনাদের দিতে হবে। আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। জনগণ রাজপথে নামলে দাবি আদায় করেই ছাড়বে।

তিনি আরও বলেন, সাত দফা দাবি দ্রুত মেনে নিন। অন্যথায় এক দফার ডাক দেওয়া হবে। সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনের ডাক দিতে আমাদের বাধ্য করবেন না।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর যশোরের গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চের যশোরের মুড়লীর মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

যশোর জেলা জামায়াত ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে পথসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘সংসদে সমস্যার সমাধান না হলে আজকের সাত দফা শেষ পর্যন্ত এক দফায় রূপান্তরিত হবে। সরকারকে আমরা সেইটুকু সময় দিতে চাই। আমরা সংসদে বসেই গণভোটের গণরায় ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্নসহ সাত দফা দাবির সমাধান করতে চাই। কিন্তু তা নাহলে আবারও দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণবিপ্লবের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনের ডাক দিতে আমাদের বাধ্য করবেন না।’

বক্তব্যে সরকারি কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ধরে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশ করে শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা কারা কারা কার্ড পেয়েছেন হাত তোলেন। কিন্তু কারও হাত দেখতে না পেয়ে তিনি বলেন, ‘এই কার্ড কারও বাবার তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে এখানে কেউই পাননি কেন? এই কার্ড সব পুকুরপাড়ে চলে গেছে।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, জাতিকে নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে। গণভোটের গণরায় নিয়ে আপনারা বেইমানি করেছেন। যা মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ রাজপথে নেমেছে। এই দাবি কোনো একক রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নয়, এটি সাধারণ মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সাত দফা দাবি আদায়ে সরকারকে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এক দফার ওজন কেউ সহ্য করতে পারেনি, আপনারাও পারবেন না।’

দাবি বাস্তবায়নে অবিলম্বে ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখনই মেনে নিন, ঘোষণা দিন।’

বক্তব্যে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি নিয়েও সতর্ক করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের রাস্তায় যারা হাঁটবে, তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।

জনগণের ওপর জুলুম ও অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কোনো ধরনের নিপীড়নমূলক শাসনব্যবস্থা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।

এর আগে দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হয়। ৩টা বাজতেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো এলাকা। পথসভায় বক্তৃতা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মোস্তাফিজ, মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, এলডিপির বিল্লাল হোসেন নিয়াজী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চান, মুফতি শরাফত হোসেন প্রমুখ।

পথসভায় আরও বক্তৃতা করেন যশোর যশোর-৬ আসনের এমপি মাওলানা মোক্তার আলী, যশোর-২ আসনের এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট এনামুল হক, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ প্রমুখ।

যশোরের পথসভা শেষে লংমার্চের গাড়িবহর শহরের মণিহার, বারান্দীপাড়া, শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়, নতুন উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, পালবাড়ি, চুড়ামনকাটি, সাতমাইল হয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা হয়ে ঝিনাইদহের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। এসময় রাস্তার দুই পাশে শত শত নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানান।