কক্সবাজারে ওয়ারিশি সম্পত্তি জবরদখল করে চারটি পরিবারকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে ওয়ারিশি সম্পত্তি জবরদখল করে চারটি পরিবারকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা

কক্সবাজারে ওয়ারিশি সম্পত্তি জবরদখল করে চারটি পরিবারকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার শহরতলির ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া এলাকায় ওয়ারিশি সম্পত্তি জবরদখল করে পুরো চারটি পরিবারকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে সাবের আহমেদের নেতৃত্বে একটি ভূমিদস্যু চক্র। তাদের নিপীড়ন ও হুমকি-ধমকি সইতে না পেরে ওই পরিবারের এক সদস্য হায়দর আলী তার পাঁচ কন্যাসন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার শহরে এসে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছেন। হায়দর আলীর দুই বোন অন্যত্র থাকলেও এক ভাই খরুলিয়ার ওই জমিতে থাকেন। কিন্তু তিনি প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকিসহ নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন। এমনকি তাকে তাদের চলাচলের পথ ব্যবহারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরেন হায়দর আলী ও তার ছোট বোন সেলিনা আকতার।

তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাদের দাদি আবেদা খাতুনের ওয়ারিশি সম্পত্তি পাচ্ছেন তার ছেলে মৃত আলী আকবরের ওয়ারিশ হিসেবে হায়দর আলী ও তার তিন ভাই-বোন। কিন্তু তাদেরই নিকটাত্মীয় সাবের আহমেদ, ইউছুপ আলী, সলিমুল্লাহ, নাছির উদ্দিন, আনছার, শামশুল আলম, ইউনুছ ও ছালেহা বেগমসহ একটি চক্র তাদের সম্পত্তি জবরদখল করে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

হায়দর আলী বলেন, "আমাদের বাবার মৃত্যুর পর দাদির সম্পত্তির ওয়ারিশ হয়েছি আমরা। ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সব সম্পত্তি আমাদের নামে খতিয়ানও হয়েছে। কিন্তু ওই জবরদখলকারী চক্রটি আমাদের জমি জবরদখল করে উল্টো আমাদেরই ভিটা ও জমি থেকে উচ্ছেদের জন্য ছলে-বলে-কৌশলে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।"

সেলিনা আকতার বলেন, "টাকার গরম ও শারীরিক বল দেখিয়ে চক্রটি অনেক দিন আগে আমাদের সব জমি অল্প টাকায় কিনে নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু আমরা সেই জমি তাদের দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের পেছনে লেগেছে।"

তিনি আরও বলেন, "সাবের আহমেদ আমাদের জমি দখল করে দালানঘর নির্মাণ করে ফেলেছেন। আমাদের জমির ন্যায্যমূল্য দেবেন বলে কয়েক বছর ধরে প্রতারণা করে চলেছেন। উল্টো তারা সবাই মিলে আমাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি ও উচ্ছেদ করার অপচেষ্টা করছে।"

এ বিষয়ে ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে হায়দর আলীর পরিবার। তারা অভিযোগ করেন, তারা অর্থনৈতিকভাবে অসহায় হওয়ায় চক্রটি তাদের নির্যাতন-নিপীড়ন করছে এবং ওয়ারিশি সম্পত্তি জবরদখল করে রেখেছে।




টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক

টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা পাচারকালে ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোররাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ হোয়াইক্যং বিওপির বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় এ অভিযান চালায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।

আটক যুবক উখিয়া থানাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৪, ব্লক-৬-এর বাসিন্দা নুরু বশরের ছেলে সৈয়দ কবির (২৫)।

বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি চালান আসছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে হোয়াইক্যং বিওপির বিশেষ টহল দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী ওবিএম পোস্ট-১ সংলগ্ন সুইচগেটের নিকটবর্তী নুর মোহাম্মদের মাছের ঘের নামক স্থানে কৌশলগত অবস্থান নেয়। এ সময় মিয়ানমারের দিক থেকে এক ব্যক্তিকে হাতে ব্যাগ নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবির সন্দেহ হয়।

বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে সে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। পরে তার হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ৩ কার্টন অর্থাৎ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সৈয়দ কবির স্বীকার করেন যে, সে উক্ত ইয়াবা মিয়ানমার সীমান্ত থেকে কম দামে কিনে বাংলাদেশে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছিল।

এ বিষয়ে ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহকারী এবং জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধেও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

আটক আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।




শাহপরীর দ্বীপে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

শাহপরীর দ্বীপে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরীর একটি বিশেষ দল শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় একটি সন্দেহজনক ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পাচারকারীরা নৌকাটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ভাসমান অবস্থায় একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগটি খুলে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।




ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যায় ২ নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা

ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যায় ২ নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চকরিয়া থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড়ভাই কাইছার হামিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। 

মামলায় রাজিয়া সুলতানা কে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত জিসান উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক।

মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই কাইছার হামিদ বলেন,এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জিসানকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। আমরা এজাহারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করেছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি,অবিলম্বে এই চিহ্নিত খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং আমার ভাই হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাকারা মাঝের স্টেশন এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত জিসানকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের চার ঘণ্টা পর সোমবার ভোররাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ,জিসানকে চকরিয়া পৌরসভা ৪ নম্বর ওয়ার্ড সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি বলেন,জিসান সংগঠনের একজন উদীয়মান নেতা ছিলেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে সাধারণ ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে চকরিয়ার রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান,মামলা রুজু হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।