ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটা বন্ধে জেলা প্রশাসককে আইনি নোটিশ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটা বন্ধে জেলা প্রশাসককে আইনি নোটিশ

ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটা বন্ধে জেলা প্রশাসককে আইনি নোটিশ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটা ও পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম বন্ধে জেলা প্রশাসকসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুলকর জিল্লু আজ এই নোটিশ প্রদান করেন।

নোটিশপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তারা হলেন— ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা উপ-পরিচালক, ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদ্বয়।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঈদগাঁও ইউনিয়নের মাইজপাড়ার ঝাইক্কাবিল এবং জালালাবাদ ইউনিয়নের ধমকা বিল, পূর্ব ফরাজিপাড়া, পশ্চিম পালাকাটা ও দক্ষিণ লরাবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় একদল অসাধু ভূমিদস্যু এক্সেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে নিচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। গভীর গর্তের কারণে পার্শ্ববর্তী আবাদি জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত।

নোটিশে আরও বলা হয়, বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া কৃষি জমির মাটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। মাটির উপরিভাগের পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ৬-১০ ইঞ্চি স্তর কেটে ফেলায় ওই জমি পুনরায় আবাদি হতে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি অবগত থাকা সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবী বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তপূর্বক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে মাটি কাটা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য হাইকোর্টে রিট (Writ of Mandamus) দায়ের করা হবে।”
 




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।