লামা-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ড্রেজারের থাবায় ধ্বংসের মুখে পরিবেশ
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

লামা-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ড্রেজারের থাবায় ধ্বংসের মুখে পরিবেশ

লামা-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ড্রেজারের থাবায় ধ্বংসের মুখে পরিবেশ
ছবি সংগৃহীত।

“বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর টিনের চশমা পরে ঘুমাচ্ছে; উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালু নিলাম দিয়ে তা বৈধ করতে ব্যস্ত।”

বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বালুখেকো চক্রের বেপরোয়া তাণ্ডবে জনজীবন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। পাহাড় ও ছড়াবেষ্টিত এই অঞ্চলের নদী-নালা ও ছড়াগুলো এখন আর স্বাভাবিক প্রবাহে নেই। ড্রেজার ও সেলো মেশিনের বিকট শব্দ এবং মাটির অতল থেকে বালু চুষে নেওয়ার তাণ্ডবে চারপাশ বিরান ভূমিতে পরিণত হচ্ছে।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর টিনের চশমা পরে ঘুমাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালু নিলাম দিয়ে তা বৈধ করতে ব্যস্ত। মাঝখানে বিরান ভূমিতে রূপ নিচ্ছে লামার দুই শতাধিক বালু পয়েন্ট। ফসলের জমি, রাস্তাঘাট, নদীর পাড়, অবকাঠামো এবং ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশ ও জনগণকে দেখার যেন কেউ নেই। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উদাসীনতার সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট লাইল্যারমার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকার দু’পাশে একাধিক শ্যালু মেশিন বসিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, লাইল্যারমার পাড়া স্কুলের দুই পাশের খুটাখালী ছড়া থেকে ৯টির মতো শক্তিশালী সেলো ও ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ছড়ার তলদেশ থেকে বালু চুষে নেওয়া হচ্ছে। উত্তোলিত বালু দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থানান্তর করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আশপাশের কৃষিজমি ও পাড়ে।

এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা মূল অভিযুক্তরা হলেন কাগজিখোলা এলাকার মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে মুবিনুল হক ও আজিজুল হক এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল বশরের ছেলে রিয়াদ। এ ছাড়া স্থানীয় আরও কয়েকটি ক্ষমতাধর গোষ্ঠী পেছন থেকে এদের ইন্ধন জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ফকিরাখোলাসহ অংসাঝিরি থেকে ইজারা ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। অভিযুক্তরা হলেন—ইসমাইল, শাহজাহান, মুমিন, রাসেল, আবু, আরমান, হুমায়ুন, শুক্কুর, ধলা মিয়া ও সাইফুল মিস্ত্রীর সিন্ডিকেট।

ধ্বংসের মুখে জনপদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো

অনিয়ন্ত্রিত ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে ছড়ার তলদেশ থেকে অতিমাত্রায় বালু তোলার ফলে ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হচ্ছে। নদীভাঙন ও ছড়ার তলদেশ অতিরিক্ত গভীর হয়ে যাওয়ায় এবং দুই পাড়ের মাটি অলক্ষিতভাবে ধসে পড়ায় ছড়াতীরবর্তী কৃষিজমি ও বসতবাড়ি চরম ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে।

লাইল্যারমার পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় মেশিনের বিকট শব্দে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নদীর পানির সঙ্গে বালি ও কাদা আশপাশের ফসলি জমিতে জমা হয়ে উর্বর মাটি নষ্ট করছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা চাষাবাদ করতে না পেরে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বালু পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে নির্মাণাধীন রাস্তা, গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও ব্রিজগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে ভেঙে পড়ছে।

লোক দেখানো নিলাম ও প্রশাসনের নীরবতা

অন্যদিকে লামা উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে উত্তোলিত এসব বালু জব্দ দেখিয়ে পরবর্তীতে লোক দেখানো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করছে। এর ফলে বালুখেকোরা সামান্য জরিমানা বা নিলামের মূল্য পরিশোধ করে কোটি টাকার অবৈধ বালু উত্তোলনের স্থায়ী বৈধতা পেয়ে যাচ্ছে।

আইনের তোয়াক্কা না করে দিনদুপুরে পরিবেশ ধ্বংসের এই মহোৎসব চললেও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের আকুতি শোনার কেউ নেই। নিরুপায় হয়ে বাইশারী ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ এবং সচেতন মহল দ্রুত এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কেবল বাইশারী বা লাইল্যারমার পাড়াই নয়, পুরো লামা উপজেলাজুড়ে প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ বালু পয়েন্ট সক্রিয় রয়েছে।

তারা অনতিবিলম্বে খুটাখালী ছড়াসহ আশপাশের সব পয়েন্টে যৌথ অভিযান পরিচালনা, ড্রেজার ও সেলো মেশিন জব্দ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বালুমহাল আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসক, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল হাসান সজীবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকায় অবস্থিত ‘মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ জোরপূর্বক দখল, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) লামার স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিসোর্টের অংশীদার মো. সুলতান মাহমুদের পক্ষে অপর অংশীদার জাফর মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লামা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলিঙ্গারবিল এলাকার জাফর মিয়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নুনারনবিল পাড়ার বাসিন্দা মো. সুলতান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে “মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট” অংশীদারির ভিত্তিতে পরিচালনা করে আসছিলেন। পূর্বে জমির মূল মালিক দুলাল মিয়ার সঙ্গে জটিলতা নিরসন করে মো. রাসেল চৌধুরী নামক বিবাদী টাকা বুঝে নিয়ে অংশীদারত্ব থেকে সরে যান এবং বাদী শেয়ার বুঝে নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাসেল চৌধুরীসহ একটি চক্র রিসোর্টের অংশীদারত্ব দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি শুরু করে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টায মো. রাসেল চৌধুরীর (সাবেক যুবলীগ নেতা) নেতৃত্বে শিশির স্বপন চাকমা, সঞ্জিতা চাকমা, মো. আরিফুল ইসলাম (ছাত্রলীগ নেতা), শাহাব উদ্দিন ও আলা উদ্দিনসহ ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী দল অবৈধভাবে রিসোর্টে প্রবেশ করে। তারা পূর্বে দাবিকৃত ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং আনুমানিক ১০,০০,০০০ (দশ লাখ) টাকার ক্ষতিসাধন করে।

হামলায় বাধা দিলে তারা মো. সুলতান মাহমুদ ও জাফর মিয়াকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা ঘটনাস্থل থেকে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল (মূল্য ৪৫,০০০ টাকা), একটি অপো মোবাইল (মূল্য ৩৫,০০০ টাকা), নগদ ৭৫,০০০ টাকা এবং আধা ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি (মূল্য ১,০৭,০০০ টাকা) লুট করে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বিবাদী রাসেল চৌধুরী রিসোর্টের ক্যাবল কেটে গলায় পেঁচিয়ে সুলতান মাহমুদকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাঁদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বিতীয় দফায় পুনরায় রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তা জোরপূর্বক দখল করে নেয় এবং হুমকি দেয় যে চাঁদার টাকা না দিলে রিসোর্ট ফেরত দেওয়া হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ৩টি দাবি জানানো হয়:

  • এজাহারভুক্ত প্রধান বিবাদী মো. রাসেল চৌধুরী ও শিশির স্বপন চাকমাসহ সব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।

  • জোরপূর্বক দখলকৃত ‘মিরিঞ্জা রয়্যাল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করা।

  • ভুক্তভোগী ও তাঁদের সহযোগীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মো. রাসেল চৌধুরী (৩৫), শিশির স্বপন চাকমা (৫০) ও সঞ্জিতা চাকমাসহ (৪৫) ১২ জনের নাম উল্লেখ করে লামা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও রিসোর্টটি পুনরুদ্ধারে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ জানান, দোষী ও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে ১০ হাজার ইয়াবা ও টমটমসহ ১ জন আটক

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে ১০ হাজার ইয়াবা ও টমটমসহ ১ জন আটক
ছবি সংগৃহীত।

১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ুয়াপাড়া এলাকায় (ঘুমধুম পুলিশ তদন্তকেন্দ্র সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়) মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযানকালে একটি সন্দেহজনক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১ জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তি: কামাল উদ্দিন (৩০), পিতা: মৃত জাহেদ হোসেন, ঠিকানা: ক্যাম্প-২/ইস্ট, ব্লক-বি, এফসিএম-১৪১৯৪৬, উখিয়া, কুতুপালং, কক্সবাজার।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক ব্যক্তি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার দিকে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশের তল্লাশিতে তিনি আটক হন।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।




গুইমারা রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী

গুইমারা রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার রামসু বাজারে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গুইমারা রিজিয়নের সার্বিক সহায়তায় এবং সিন্দুকছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মাসব্যাপী যৌথ চিকিৎসাসেবা ও বহুমুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আজ সফল সমাপ্তি ঘটেছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী, গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সব জোন কমান্ডার এবং সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্য নিয়ে প্রধান অতিথি চারজন ব্যবসায়ীকে নতুন তৈরি দোকানঘর হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি রামসু বাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত এক রোগীকে দোকানসামগ্রী ও চলাচলের সুবিধার্থে একটি হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

শিক্ষার প্রসারে এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিতে গুইমারা ও মানিকছড়ি উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া এলাকার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে সোলার ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

যুবসমাজকে কর্মমুখী করার প্রয়াসে বেকার যুবকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করাসহ মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এলাকার প্রায় ১,২০০ জন সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মানবিক ও সর্বাত্মক পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে বিশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।